মহাদেবপুরে কাজ শুরুর আগেই ভূয়া ভাউচারে ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৪; সময়: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ |
মহাদেবপুরে কাজ শুরুর আগেই ভূয়া ভাউচারে ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শুরু না করেই ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভূয়া ভাউচার দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। গত অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় এই উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুই লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ দেয়।

বিদ্যালয়গুলো হলো, খাজুর ইউনিয়নের খোর্দ্দজয়পুর লতিফুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হরিরামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভীমপুর ইউনিয়নের খোর্দনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সফাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রকল্পের বরাদ্দপত্র আসার পর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে মেরামত কাজের এস্টিমেট করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ অর্থে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে বিল দাখিল করবেন। উপজেলা প্রকৌশলী প্রকল্প পরিদর্শন করে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হলে প্রত্যয়ন দেয়ার পর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক হিসেবে বিলের সমুদয় টাকা স্থানান্তর করার কথা।

কিন্তু গত ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র খোর্দজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পেরেছে। বাঁকি চারটি স্কুলের কাজ শেষ না হলেও শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিল ভাউচার দাখিল করে বরাদ্দের টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, নিয়মানুযায়ী ৩০ জুনের আগে ওই পাঁচটি প্রকল্পের বিল ভাউচার জমা দেয়ায় সরকারি ট্যাক্স কেটে রেখে প্রকল্পের সমুদয় টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী তার নিজের একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয় ভবন মেরামতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই ভবন আগে থেকেই রঙ করা আছে।

নতুন করে রঙ করার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না এলাকাবাসী। প্রধান শিক্ষক দুলালী রাণী জানালেন, তিনি প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই করতে পারেননি। কোন সামগ্রী না কিনে, মিস্ত্রি শ্রমিকের মজুরি না দিয়েই সেগুলোর ভূয়া ভাউচার কিভাবে দাখিল করলেন জানতে চাইলে তিনি সাবলিল ভাষায় বলেন, সবাই দিচ্ছে, তাই তিনিও দিয়েছেন। অন্যথায় ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের টাকা ফেরত চলে যেতো। একজন শিক্ষিক হয়ে কাজ শুরু না হলেও শতভাগ সমাপ্তির মিথ্যা রিপোর্ট ও ভূয়া ভাউচার দাখিল করা কতটা যুক্তিযুক্ত তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এদিন গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ভবনের কিছু কিছু অংশে নতুন রঙ করা হলেও প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ করতে পারেননি।

প্রধান শিক্ষিকা মিলনা রাণী স্বীকার করেন যে, প্রকল্পের কাজের জন্য যেসব ভাউচার দাখিল করেছেন সেগুলো সঠিক নয়। কিন্তু ৩০ জুনের মধ্যে ভাউচার দাখিল না করলে বরাদ্দের টাকা ল্যাফ্স হয়ে যাবে জন্য তিনি ওইসব ভাউচার দাখিল করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোর্দনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হরিনামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত কাজ শেষ না হলেও একইভাবে ভূয়া ভাউচার দাখিল করা হয়েছে। বিদ্যালয়ভবনগুলো মেরামতের জন্য প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সামান্য ঘষামাজা আর রঙ করা নিয়েও কথা উঠেছে। ভবনগুলোতে আগের করা রঙই ভালো আছে। তার উপর রঙ লাগানোর তেমন কোন প্রয়োজন না, থাকলেও সামান্য রঙ করে প্রকল্পের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

জানতে চাইলে এই প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আশিকুর রহমান জানান, নিয়মানুযায়ী বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র খোর্দজয়পুরে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রত্যয়ন দেয়া হয়েছে। অন্য চারটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হলে পরিদর্শন শেষে প্রত্যয়ন দেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাফিয়া আকতার অপু স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রকল্পের কাজে কোন অনিয়ম করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে যেভাবে হয়ে আসছে, এবারও সেভাবেই করা হয়েছে। তিনি জানান, চারটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় ৩০ জুনের আগে প্রকল্পের টাকা ভাউচার দিয়ে তার নিজের হিসাবে নিয়ে রেখেছেন। কাজ শেষ হওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলী প্রত্যয়ন দিলে তখনই ওইসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হিসাব নম্বরে টাকা দেয়া হবে। নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রধান শিক্ষকদের হিসাব নম্বরে না দিয়ে তার নিজের ব্যাংক হিসাবে রাখাটাও বেআইনী হয়নি বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে