ইবি শিক্ষার্থীদের ‘১১৮ মিনিটের’ মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৪; সময়: ৩:১২ অপরাহ্ণ |
ইবি শিক্ষার্থীদের ‘১১৮ মিনিটের’ মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইবি : সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সকল চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে মেধা ভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কেন্দ্র কর্তৃক ঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মোড়ালে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে পদযাত্রা শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ১১৮ মিনিটের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে যানবাহনের লম্বা সাড়ি দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবরোধকালীন সমাবেশে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করার পাশাপাশি বক্তব্য এবং প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার। ‘আমরা পড়ার টেবিলে বসতে চাই, রাস্তায় না’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘আপস না সংগ্রাম? সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়াও, অবরুদ্ধ মহাসড়কে একদল শিক্ষার্থীকে ফুটবল খেলতেও দেখা যায়।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাওয়ানা শামিম বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানে অনগ্রসর গোষ্ঠীদের অগ্রসরতার জন্য কোটা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অনগ্রসর বলতে বোঝায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মূল স্রোতের বাইরে থাকে। আমরা তাদেরকে স্পেশাল সুবিধা দিয়ে থাকি। আমাদের যে বন্ধুটার মা-বাবা কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর তারা কি অনগ্রসর গোষ্ঠী হলেও তাদের কোটা সুবিধা দেয়া হচ্ছেনা। আমাকে নারী কোটা দেয়া হচ্ছে অনগ্রসর হিসেবে কিন্তু আমি এমন বৈষম্য চাই না।

ছাত্র মৈত্রী’র সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিরুল কবির বলেন, আমাদের একটাই দাবি কোটা সংস্কার, আমরা কিন্তু বাতিলের কথা বলিনি। যৌক্তিক কোটা সংস্কারের মাধ্যমে মেধাবীদেরকে প্রধান্য দেওয়া হলে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত থেকে শুরু করে প্রশাসনিক পর্যায়ে লাল-ফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে।

এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করার যে পরিকল্পনা সেটা মেধাবীদের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব। যদি সরকার দাবি মেনে না নেয় তাহলে শিক্ষার্থীরা রাজপথে থাকবে।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ছাত্র ইউনিয়ন ইবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুইট বলেন, আমরা মূলত এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কার চাই। আমাদের মূল বক্তব্য কোটা বাতিল না করে একটা যৌক্তিক সংস্কার।

আমরা চাই যারা এসব বিষয় যারা দেখভাল করছে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী এবং শিক্ষার্থীসহ সবাই বসে একটি সুষ্ঠু সমাধান করে কোটার এই ভয়ানক ধাবা থেকে আমাদের পরিত্রাণ করুক।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে