সম্পদ গোপন করে দেউলিয়া আদালতে মামলা সেই চালকল মালিক ওসমান গনিকে আটকের দাবি

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৪; সময়: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ |
সম্পদ গোপন করে দেউলিয়া আদালতে মামলা সেই চালকল মালিক ওসমান গনিকে আটকের দাবি

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক, নওগাঁ : শীর্ষ চালকল মালিক নওগাঁর মহাদেবপুরে অবস্থিত ওসমান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গনিকে আটক করার দাবি করেছেন তার পাওনাদার কৃষক ও ক্ষুদ্র ধান চাল ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে তারা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন করেন। কর্মসূচীতে নেতৃত্বদেন স্থানীয় মহাদেবপুরের আরতদার আবু আহসান হাবিব। মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসক গোলাম মওলার কাছে ওসমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ কারীরা বলেন, ২৬০ জন কৃষক ও ক্ষুদ্র ধান চাল ব্যবসায়ীর কাছে ওসমান গনির দেনা ৩৫ কোটি টাকা। ৭ টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রষ্ঠানসহ মোট দেনা ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ঋণ শোধ না করে বিপুল সম্পদ গোপন করে দেউলিয়া আদালতে মামলা করেছেন ওসমান।

মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী আবু আহসান হাবিব বলেন, ওসমান গনি প্রায় ৩০ বছর ধরে ধান-চালের ব্যবসা করেন। ২০১৫ সালের দিকে নওগাঁর মহাদেবপুরের আখেড়া এলাকায় ৩ টি বড়-বড় অটো রাইসমিল গড়ে তোলেন। অল্পদিনেই তিনি দেশের শীর্ষ চালকল মালিক হয়ে উঠেন। এই সবকিছুই করেছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে। পরবর্তীতে কৃষক আরতদার ও ক্ষুদ্র চালকল মালিকদের কাছ থেকে বাঁকীতে বিপুল পরিমান ধান কিনেন।

২০২৩ সালে এসে দেনা পরিশোধে তালবাহানা শুরু করেন। ২০২৪ সালের শুরুতেই তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনার জন্য আদালতে একটি মামলা করেন। এই মামলায় বিবাদী করেন সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৬০ জন কৃষক, আরতদার ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়িকে।

ধান বিক্রির টাকা না পেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরছেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঢাকা, রাজশাহী ও বগুড়াসহ বিভিন্ন আদালতে ওসমানের বিরুদ্ধে ৯৭ টি মামলা হয়েছে।

ওসমান গনি প্রকৃতপক্ষে দেউলিয়া নন দাবি করে আরেক পাওনাদার মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকার সামিউল হাসান জানান, নওগাঁ, ঢাকা ও রাজশাহী মিলিয়ে ওসমান পরিবারের হাজার কোটি টাকার বেশী সম্পদ আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে মাত্র ২৮ একর জমি বন্ধক দেয়া আছে। বেশীর ভাগ জমি, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ করেছেন স্ত্রী, কন্যা জামাতা ও ছেলের নামে।

সামিউল বলেন, ঢাকার পল্লবী এলাকার বাইগারটেকে ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ৬ তলা ভবন, মার্কেট, নির্মানাধীন ২ টি বাড়িসহ বেশ কিছু জমি কিনেছেন। প্রস্তাবিত ওসমান টাওয়ার নামে একটি বহুতল বভন নির্মান করার জন্য পাশেই প্রায় ৪০ শতক জমি কিনেছেন। সেখানে অস্থায়ী বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। নির্মানাধীন বাইগারটেক ভবনে তারা ৮ টি ফ্লাটবাড়ি কিনেছেন।

এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওসমানের ভাই রাজ্জাকের সাথে যৌথ ভাবে কয়েকটি ফ্লাটবাড়িসহ ঢাকা শহরে মেয়ে জামাই, স্ত্রী ও ছেলের নামে বে-হিসেবী ফ্লাট বাড়ি কিনে রেখেছেন ওসমান। মহাদেবপুরে অটো রাইস মিলের পাশে আলিশান বাড়ি করেছেন। জমি কিনেছেন অন্তত ৫০ একর। সব সম্পদ তিনি দেউলিয়াত্বে মামলায় উল্লেখ করেন নি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিন থেকে চার মাস ধরে ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসমানের দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। তিনি পরিবারসহ আতœগোপনে আছেন। গোপনে প্রতিষ্ঠানটিগুলো ভাড়া দিয়েছেন।

মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকার সামিউল আলম আরো বলেন, গত ৫ থেকে ৬ বছর ধরে নগদ ও বাঁকিতে ওসমান গনির মিলে ধান সরবরাহ করেন। এভাবে প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন। পাওনা টাকা চাওয়া হলে বিভিন্ন বাহানা শুরু করে। পাওনা পরিশোধ না করার কৌশল হিসেবে ওসমান গনি ঢাকার দেউলিয়া আলতে মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা বলেন, ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী ও কৃষকরা একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে