মহাস্থান হাটের কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৪; সময়: ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ |
মহাস্থান হাটের কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : বাংলা মাসের জ্যৈষ্ঠকে বলা হয় মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ শেষে আষাঢ়ে জাতীয় ফল কাঁঠালের ভরপুর বাজার জমে উঠেছে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান হাটে।

কাঁঠাল উৎপাদনকারী অনেক অঞ্চলের নাম শোনা গেলেও মহাস্থানহাট তাদের মধ্যে অন্যতম। বগুড়া ছাড়াও জয়পুহাট, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল আমদানি করেন। তবে এবার কাঁঠালের আমদানি অনেক কম হওয়ায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে।

আগে মহাস্থানের আমদানিকৃত কাঁঠাল প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ট্রাক দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হতো। সে হিসেবে এবার কাঁঠালের আমদানি কম বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তারপরেও আশানুরূপভাবে প্রতিদিনই মহাস্থান হাটে কাঁঠালের আমদানি হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাস্থান হাটের পাইকাররা ভিড় জমিয়ে সকাল থেকে এ হাটে কাঁঠাল কেনাবেচা করছে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উজগ্রাম থেকে এনামুল হক ৩২ টি কাঁঠাল নিয়ে অটোভ্যান যোগে মহাস্থান হাটে বিক্রি করতে এসেন। তার ৩২টি কাঁঠালের দাম হাকানো হয়েছে ২৫৬০ টাকা।

শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার আজিজার রহমান তার গাছের বাছাইকৃত ২৭টি কাঁঠাল ২৪৩০ টাকায় বিক্রি করেছে।

উপজেলার চন্ডিহারা এলাকার মহাস্থান হাটের পাইকার তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১ট্রাক কাঁঠাল পাইকারি দরে ক্রয় করে সিলেটের মোকামে পাঠাই।

ভ্যানবোঝাই করে মহাস্থান হাটে কাঁঠাল নিয়ে আসা আরেক ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া জানান, প্রতিদিন তারা গ্রাম-গঞ্জ থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করে মহাস্থান হাটে বিক্রি করে থাকেন। প্রতি পিস কাঁঠাল আকার অনুসারে ৮০টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, মহাস্থান হাটের কাঁঠাল যাচ্ছে কুমিল্লা, সিলেট, চট্রগ্রাম, লাকসাম, নোয়াখালী ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সিলেট থেকে আসা পাইকার আল আমিন জানান, এই এলাকাতে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠালের চাষ হয়। তাই মৌসুম জুড়ে অনেক কাঁঠাল পাওয়া যায় বলে সিলেট থেকে এসে মহাস্থানের বিভিন্ন আড়ৎ থেকে ট্রাক ভর্তি করে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাই।

বগুড়া চেম্বার অব কর্মাসের সদস্য ও বিশিষ্ট আড়ৎ ব্যবসায়ী মাহিম ও মুক্তি ফল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী রহেদুল ইসলাম জানান, দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে বেপারীরা মহাস্থানহাটে কাঁঠাল কিনতে আসে। এরা আগের দিনে বিভিন্ন আড়ৎ, আবাসিক হোটেলে থাকেন। তারা আমাদের মাধ্যমে কমিশনে কাঁঠাল কিনে ট্রাক লোড দিয়ে মোকামে যান।

মহাস্থান হাট থেকে কাঠাল কিনে তাদের এলাকায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়। তিনি আরও জানান মহাস্থান কাঁঠালের বাজারের কারনে আড়ৎ ব্যবসায়ী, লেবার শ্রমিক, কাঁঠাল পরিবহন অটোভ্যান ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, বগুড়ার শস্য ভান্ডার শিবগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় সকল মৌসুমি ফলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার থেকে পাইকাররা এ হাটে কাঠাল বিক্রি করে থাকে।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে