আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশে এসেছি : জাপানি মা

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৪; সময়: ২:২৮ অপরাহ্ণ |
আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশে এসেছি : জাপানি মা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে জাপানি মা নাকানো এরিকোর বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা মামলার শুনানি ও হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে নাকানো এরিকোর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম। আদালতে জাপানি মা নাকানো এরিকো উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (১০ জুলাই) বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে জাপানে রেখে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন জাপানি মা নাকানো এরিকো। এরপর বৃহস্পতিবার আদালতে এসে নাকোনো এরিকো বলেন, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশে এসেছি।

তিনি জানান, মামলার শুনানির সময় আপিল বিভাগে উপস্থিত থাকতে জাপান থেকে চলে এসেছেন।

গত ৯ মে বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে জাপানি মা নাকানো এরিকোর বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা মামলার শুনানি ও হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের আপিল শুনানির জন্য ১১ জুলাই ধার্য করেন আপিল বিভাগ।

সেদিন আদালত বলেছিলেন, মামলার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে আমরা ওই দিন জাপানি শিশুদের নিয়ে আপিল মামলা নিষ্পত্তি করব।

এর আগে, বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে জাপানে চলে যাওয়ার ঘটনায় জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন ইমরান শরীফ। এছাড়া জাপানি তিন শিশুকে বাবা-মায়ের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন উভয়পক্ষ।

বড় কন্যা সন্তান জেসমিন মালিকাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে জাপানে চলে যান জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো। গত ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যান। জাপানি শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ এমন অভিযোগ করেন।

সেসময় ইমরান শরীফ বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থা থাকার পরও নাকানো এরিকো আদেশ অমান্য করে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন যে, জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা (বড়) ও তার ছোট বোন সোনিয়া তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে। মেজ মেয়ে লাইলা লিনা বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে।

রায়ে বলা হয়, প্রথম ও তৃতীয় মেয়েকে নিয়ে জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো বাংলাদেশে বা যেকোনো দেশে বসবাস করতে পারবেন। তবে বাবা সন্তানদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন। একইভাবে দ্বিতীয় মেয়ে লাইলা লিনা বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবেন। জাপানি মা দ্বিতীয় মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন।

তবে গত ৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। কিন্তু ৯ এপ্রিল বিকেলে নাকানো এরিকো বড় সন্তানকে নিয়ে জাপানে চলে যান।

এদিকে, আদেশ অমান্য করার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম সেদিন বলেছিলেন, সন্তানদের দেশের বাইরে যেতে আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। তারপরও বড় সন্তানকে নিয়ে নাকানো এরিকো চলে গেছেন। এ কারণে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।

এর আগে, ঢাকার জেলা জজ আদালত বাংলাদেশে থাকা জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা জাপানি মায়ের কাছে থাকবে বলে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন ইমরান শরীফ।

গত বছরের ৯ মার্চ জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে বিদেশে নিয়ে যেতে জাপানি মায়ের আবেদন নাকচ করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে দুই শিশু কার জিম্মায় থাকবে এ সংক্রান্ত আপিল জেলা জজ আদালতকে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আদালত। এসময় পর্যন্ত দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবে বলে বলা হয়।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে