রাজশাহীতে ছিনতাই রহস্য উদ্‌ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬; সময়: ৫:১০ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি আলোচিত ছিনতাই মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি অংশগ্রহণকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬), যিনি ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরজন মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। তিনি বর্তমানে কাদিরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি ডিবির। মিলন মতিহার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক। গত দুইটি ঈদ উপলক্ষে তিনি ৩০ নং ওয়ার্ডে দলীয় পরিচয় দিয়ে ঈদ শুছেচ্ছার পোস্টার দিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা প্রায় ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড করার পর সেন্টার থেকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। তিনি টাকাগুলো লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে লরিটি বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত লরির গতিরোধ করে। তারা লরির জানালার কাচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ভেতরে থাকা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিবি) তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ডাবলুর কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা এবং মিলনের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত পিস্তলসদৃশ বস্তু ও ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। মিলনের বিরুদ্ধে ৯টি ও ডাবলুর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে নগরীর বিভিন্ন থানায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন