রাসিকে ৩৮ কাউন্সিলর প্রার্থীই আসামি

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৩; সময়: ২:২২ অপরাহ্ণ |
রাসিকে ৩৮ কাউন্সিলর প্রার্থীই আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যক কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছে। এরই মধ্যে একটি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এবার কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকে রয়েছেন মামলার আসামী। আবার প্রতারণার মামলায় জেলে বন্দি থেকেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এক প্রার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ হত্যা মামলার আসামি, কেউ অস্ত্র মামলার। কেউবা আবার মাদক চোরাচালান, বোমাবাজি বা মারামারি মামলার আসামি। এবার এমন ৩৮ জন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ ২০টি করে মামলা বর্তমানে চলমান। তারা এবার হতে চাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি।

রাজশাহী নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা কাউন্সিলর প্রার্থীদের হলফনামায় দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ১১৭ জনের। এরমধ্যে ৩৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমানে বিভিন্ন মামলার আসামি। এছাড়া আরও ১৮ জন আগে মামলার আসামি ছিলেন। তারা মামলা থেকে অব্যাহতি কিংবা খালাস পেয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

এদিকে ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৪৬ জন। তাদের নামে কোন মামলা নেই। আগে দুজনের নামে মামলা হলেও তারা খালাস পেয়েছেন। একজন নারী প্রার্থী প্রার্থী বর্তমানে প্রতারণার মামলায় কারাগারে রয়েছেন। ওই প্রার্থীর নাম ফারজানা হক। এবার সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪৪ শতাংশই বিভিন্ন মামলার আসামি।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ২০টি মামলা চলমান রয়েছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের। এরমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে ১২টি মামলা। তদন্ত চলছে ছয়টির। কামরুজ্জামান ইতোমধ্যে তিনটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা বর্তমান মামলাগুলোর বেশিরভাগই বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের।

নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আফজাল হোসেনের মামলা আছে ১৪টি। আগের তিনটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। তার মামলাগুলোও বিস্ফোরকদ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের।

নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম রুবেলের নামে মামলা আছে তিনটি। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলাও আছে তার। তিনি একটি হত্যা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ২০১৮ সালে। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আশরাফ হোসেন বাবু তিনটি মামলার আসামি। এরমধ্যে দুটি বিচারাধীন। একটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী নুরুজ্জামান টিটোর নামে আছে হত্যাসহ দুটি মামলা।

নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর এবং শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলছে শ্রম আদালতে। নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জামায়াত নেতা আবদুস সামাদের মামলার সংখ্যা ছয়টি। এরমধ্যে দুটি বিচারাধীন, চারটির তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে তিনি চারটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা চলমান। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমানের নামেও একটি মামলা আছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু দুটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রবিউল ইসলাম চারটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলিফ আল মাহামুদ লুকেন তিনটি বিচারাধীন মামলার আসামি। আগে তিনি ছয়টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। ১৫টি মামলা থেকে আগে খালাস পেলেও এখনও একটি মামলা চলমান ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রেজাউন নবী আল মামুনের। ১০ নম্বরের প্রার্থী রাজ্জাক আহমেদ রাজনের মামলার সংখ্যা দুটি।

নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল আহমেদের বিচারাধীন মামলা আছে দুটি। ৩০ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পিন্টুর বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা একটি। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানও একটি মামলার আসামি।

২ নম্বরের নোমানুল ইসলামেরও মামলা আছে দুটি। ২৬ নম্বরের মহিউদ্দিন বাবুর বিচারাধীন মামলা চারটি। তিনটিতে খালাস পেলেও এখনও দুটি মামলা চলছে ২৯ নম্বরের প্রার্থী মাসুদ রানার। আদালতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রুহুল আমিনের বিচার চলছে ৮টি মামলা। ৩ নম্বরের প্রার্থী বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের বিচারাধীন মামলা তিনটি। ৫ নম্বরের হামিদুল ইসলাম সুজনের বিচারাধীন মামলা দুটি। আর ২ নম্বরের প্রার্থী মুখলেসুর রহমানের মামলা সাতটি।

এছাড়া নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন বিচারাধীন ৯টি মামলার আসামি। একই ওয়ার্ডের আনারুল ইসলাম ও একলাস হোসেন লাকি একটি করে মামলার আসামি। ২৭ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আযব তিনটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ১১ নম্বরের প্রার্থী আবু বাক্কার কিনুর নামেও জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা আছে। ১৪ নম্বরের মো. টুটুলের মামলার সংখ্যা তিনটি।

২৫ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টুর বিচারাধীন মামলা তিনটি। এছাড়া নগরীর ১৪ নম্বরের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও মুরাদ আলী একটি করে মামলার আসামি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আখতার আহম্মেদ বাচ্চু, ২৯ নম্বরের আবু জাফর বাবু, ৬ নম্বরের মো. বদিউজ্জামান, ২৬ নম্বরের মখলেসুর রহমান খলিল, ২৭ নম্বরের মো. মনিরুজ্জামান, ৮ নম্বরের জানে আলম খান জনি, ২৪ নম্বরের জাহাঙ্গীর আলম ও ১০ নম্বরের আমিনুল ইসলামেরও মামলা আছে একটি করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা জনগণের দায়িত্ব। তারা সব প্রার্থীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ভোট দেবেন, এটাই হওয়া উচিত। তাহলে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী ২ জুন প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ২১ জুন ইভিএমের মাধ্যমে সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে