কচুয়ায় সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়ায় সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া উপজেলার লস্করী থেকে মতলব উপজেলার চারটভাঙ্গা প্রায় ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত ওই খালে কচুরিপানা ছিল। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মৎস্যচাষীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান শিশিরের হস্তক্ষেপে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ওই সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন ওই খালে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কচুরিপানা অবমুক্তকরনের কাজ করছেন।
এতে করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির এমন মহতী উদ্যোগ নেয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন এলাকাবাসীর কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই খালে কচুরিপানার জমাট থাকায় খালের পাশের রাস্তায় মানুষ যাতায়াত করতে ভয় পেত।
বিশেষ করে বিষধর সাপ বিচ্ছু,ডেঙ্গু মশার উপদ্রব ছিল বেশি। ফলে স্থানীয়রা চলাফেরা করতে আতংকিত থাকত। ইতিমধ্যে ওই খাল থেকে শতাধিক বিষধর সাপ মেরে ফেলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন ওই খাল থেকে বিষধর সাপ ও বিচ্চু সাধারন মানুষকে আক্রমন করে। খালে কচুরিপানার জমাট থাকায় বিষধর পোকা মাকড়ের কারনে খালের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হিমসিম পোহাতে হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির নিদের্শনায় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও দলীয় নেতাকর্মীরা এমন মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে কচুরিপানা অবমুক্ত করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেন,ডালিম সরকার,রুবেল আহমেদ প্রধান, রুবেল প্রধান নীরব ও শ্রমিক মামুন, আব্দুলসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই খালে কচুরিপানা থাকায় নৌকা যাতায়াত করতে পারছে না। একসময় ওই খাল দিয়ে প্রতিনিয়ত নৌকা চলাচল করত। দ্রুত ওই সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত ভাবে কাজ করছি।
ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন ওই খাল থেকে রাস্তায় বিষধর সাপ ও বিচ্চুর কারনে ভয়ে আতংকে চলাচল করতে হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে আমরা খাল থেকে প্রায় ৩ কি.মি. পর্যন্ত দ্রুত কচুরিপানা অপসারন করছি। অচিরেই পুরো সুন্দরী খালের কচুরিপানা অবমুক্ত করা হবে।
ইউএনও নাজমুল হাসান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার আমরা সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত উদ্বোধন করেছি। পরবর্তীতে কচুয়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় খালে কচুরিপানা থাকলে দ্রুত অবমুক্ত করা হবে ।
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সুন্দরী খালটি পরিদর্শ করি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের চিন্তা করে কচুরিপানা অবমুক্তের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
আওয়ামী দলীয় যুবলীগ,ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ওই খাল থেকে কচুরিপানা অবমুক্ত করা হচ্ছে। পুরোপুরি ওই সুন্দরী খালে কচুরিপানা অবমুক্ত করতে নেতাকর্মীরা কাজে অব্যাহত থাকবে।




