নওগাঁয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৩; সময়: ৫:১৫ অপরাহ্ণ |
নওগাঁয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় সৌখিন মৎস্য শিকারিদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। মৎস্য শিকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বড়মুল্লক গ্রামের প্রায় ৪৫ বিঘা আয়তনের দিঘি রয়েছে। দিঘির মালিক কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু।

দিঘিতে টিকেট কেটে হুইল-বড়শী দিয়ে মাছ শিকারের জন্য তিনি এলাকায় মাইকিং করেন। এছাড়া দীঘিতে বড় ও পর্যাপ্ত মাছ আছে বলে প্রলুব্ধ করা হয়।

এভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারনা চালানো হয়। দিঘির চার পাশে ৫৮ টি চৌকি বসানো হয়। প্রতিটি চৌকির টিকেটের দাম ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সৌখিন মাছ শিকারী মান্দা উপজেলার শাহিন বলেন, ৪০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে থেকে মৎস্য শিকারীরা মাছ শিকারে দিঘিতে হুইল-বড়শী ফেলেন।

এরপর ২০ ঘন্টা পার হলেও কেউ বড় একটা মাছ শিকার করতে পারেনি। অথচ দীঘির মালিক বলেছিলেন- দিঘীতে সর্বনিম্ন ৩ কেজি রুই, কাতলা, গ্রাসকার্প মাছ রয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১৮ কেজি পর্যন্ত মাছ রয়েছে।

অথচ এখন পর্যন্ত কেউ দুই কেজি ওজনেরও মাছ স্বীকার করতে পারেনি। যেসব মাছ ধরা পরেছে সেগুলোর ওজন আড়াইশো গ্রাম থেকে এক কেজি।

প্রলুব্ধ করে মৎস্য শিকারীদের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানের শান্তি দাবি করেন তিনি।

আরেক জন সৌখিন মাছ শিকারী সাপাহার উপজেলা আব্দুল হালিম জানান, মাছ ধরা বা না ধরা কোনো বিষয় না, কিন্তু মাছের যে ওজন তাতে শিকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে দিঘির মালিক আশরাফুল চেয়ারম্যান।

এখন পযন্ত ৩ কেজি ওজনের একটি মাছও যদি কেউ শিকার করতে পারতেন তাহলেও বুঝতাম দিঘিতে বড় মাছ আছে। দিঘীতে ছোট মাছ ছেড়ে প্রতারনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা টিকিট কেটে শিকারে অংশ‌ নিয়েছেন। টিকিট খরচসহ প্রতিটি চৌকিতে ৮০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি

এতে প্রতারনার শিকার মৎস্য শিকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি টিকেটের দাম ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়াও আমাদের অনেক খরচ হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারনাকারীদের বিচার চান তারা।

এ বিষয়ে দিঘির মালিক চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই লটারি ছাড়া হয়েছে। এর বেশি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হোননি তিনি।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক গোলাম মাওলা জানান, দিঘির মালিক মাছ শিকারের জন্য টিকিটের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। এরপর দিঘিতে জাল টেনে সন্তোসজনক মাছ দেখতে পাওয়া যায় নি।

দীঘির মালিক ও কিছু শিকারীদের জোড় আবেদনের প্রেক্ষিতে পরতর্তীতে টিকিটের মূল্য ২৫ হাজার টাকা সর্বোচ্চ নির্ধারণ করে মতামত প্রদান করা হয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে