গুরুদাসপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ১

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৩; সময়: ১:০৭ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গুরুদাসপুর : নাটোরের গুরুদাসপুরে সীমা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মশিন্দা ইউপির শিকারপুর বাহাদুরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন, গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম। এ ঘটনায় রাতেই নিহতের ভাই রুবেল আহমেদ বাদি হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিহত সীমা খাতুন গুরুদাসপুর উপজেলার রানীগ্রাম ফকিরপাড়া এলাকার আছাদ আলীর মেয়ে। তার স্বামী বাহাদুরপাড়া গ্রামের ইছর আলীর ছেলে রতন ওরফে কালু মিয়া। নিহত সীমা খাতুনের পাঁচ বছরের এক মেয়ে ও তিন বছরের এক ছেলে আছে।

নিহত সীমা খাতুনের খালাতো ভাই সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের স্বামী রতনের সাথে গুরুদাসপুরের এক মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ের সাথে সে স্থানীয়দের হাতে আটকও হয়।

পরকীয়া সম্পর্কের কথা আমার বোন জানার পর থেকেই তাকে মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করতে থাকে রতন, এ নিয়ে ব্যাপক দাম্পত্য কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে সীমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম এবং মাথা ফাটিয়ে দেয়।

পরে রতনের পরিবারের লোকজন সীমাকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে মাথায় সেলাই দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। বিকেল বাড়িতে আসার পরে সীমা বমি করতে থাকলে রতন ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের বলে বিষ খেয়েছে।

সীমার অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নিয়ে যেতে বলে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়ার সময় বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় সীমা মারা গেলে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে আসে রতনের পরিবার।

মরদেহ বাড়িতে আনার পরে রতনের পরিবার স্থানীয়দের জানায়, বিষ খেয়ে মারা গেছে সীমা। এসময় তারা একটি ডেথ সার্টিফিকেট দেখায় স্থানীয়দের।

এ ব্যাপার জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সীমা খাতুনকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ তার মাথায় সেলাই দেওয়া হয়।

এক ঘন্টা পরে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার শরীরে বিষের উপস্থিতি পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হয়। রাজশাহী নেওয়ার পথে মারা যান সীমা খাতুন। নিহতের স্বজনের কোনো ডের্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি, তাদের টান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম জানান, বাদি-বিবাদির বরাত দিয়ে বলেন, বাদিদের অভিযোগ পিটিয়ে জখমের পরে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে আনার পর সীমা খাতুন বিষ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু বিবাদীরা জানান, পিটিয়ে জখমের পরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসলে রাগ-অভিমানে বিষপান করেন সীমা খাতুন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই রুবেল আহমেদ বাদি হয়ে সীমার স্বামী কালুসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কালুর চাচাতো ভাই মামলার ৪ নম্বর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে সীমা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন