ঈশ্বরদীতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পড়ে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধনের আড়াই বছর পার হয়েছে। ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটি এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না। আড়াই বছর ধরে অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনটি ক্রমেই জৌলুস হারাচ্ছে। ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় যে দোকান ঘরগুলো করা হয়েছে, সেগুলোও এখন পর্যন্ত বন্ধ পড়ে আছে।
সারা দেশের মতো ঈশ্বরদী উপজেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন না হওয়ায় কমিটি নেই। এ অবস্থায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দায়িত্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালে। তিন বছর পর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর ধরে কোনো নির্বাচন হয় না।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০১৭ সালের মার্চে উপজেলা রোড এলাকায় ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধন করেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটিতে প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা মারা আছে। ভবনের বাইরের অংশের দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় শেওলা পড়েছে। ভবনের সামনের অংশের চত্বরে ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা সদরের ষ্টেশন রোড বাজার এলাকায় উপজেলা সংসদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে । ওই স্থানটি উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যাতায়াত করে। ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর প্রশাসন থেকে ভবনটি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দিলেও তারা সেটা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে আসছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমিটি না থাকায় ভবনগুলোর পরিপূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত কমিটির হাতে ভবনগুলো বুঝিয়ে দিলেই বাস্তবায়িত হবে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য।’
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল জানান, ‘ভবনটিতে বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয় পার হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যেতে চান না। এখন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবনটি পড়ে আছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘অনেক দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়েছে। ভবনটি ব্যবহারের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বলাও হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করবেন তিনি।’




