জানাজা শেষে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন শায়িত হলেন এনায়েতপুর দরবার শরীফে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৩; সময়: ৬:৩৬ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফে অগনিত মানুষের অংশ গ্রহনে জানাজা শেষে মাদারীপুর-৩ (সদর ও কালকিনি) আসনের বার-বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আবুল হোসেন (৭২) কে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার সময় পুর্ব ইচ্ছানুযায়ী উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক সুফি সাধক হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর মাজার শরীফের পাশে তাকে শায়িত করা হয়। এ দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীর খাজা কামাল উদ্দিন নুহু মিয়ার তিনি ছিলেন জামাতা ও ভক্ত অনুসারী।

এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার লাশ দরবার শরীফে আসা মাত্র ১নং ফটক চত্তরে তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে বাদ জোহর দরবার শরীফের মসজিদে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৈয়দ আবুল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা, আত্বীয়-স্বজন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, স্থানীয় এমপি আব্দুল মমিন মন্ডল, রাজনীতিবিদ, এলাকাবাসী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়।

উপস্থিত সকলে সৈয়দ আবুল হোসেনকে কীত্তিমান আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি দেশ সেবায় মানুষের কল্যানে যে অনন্য ভুমিকা রেখে গেছেন প্রত্যেক রাজনীতিবিদদেও তার কর্মগুন অনুসরন করা উচিৎ। তার রেখে যাওয়া অগনিত স্থাপনা আজীবন মানুষের সেবায় নিয়জিত থাকবে। তার শুন্যতা কখনো পুরণ হবার নয়। দেশ ও জাতি আজীবন প্রিয় মানুষটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আমরা তার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি।

পিতার আদর্শে তার দুই মেয়ে দেশ সেবায় মানুষের কল্যানে ভুমিকা রাখবে বললেন বড় মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন। তিনি জানান, আমার বাবা শুধু আমাদের বোনদেরই উচ্চ শিক্ষিত করেনি। পাশাপাশি আমাদের মাদারীপুরের অসংখ্যা অভাবী ছেলে মেয়েদেরও শিক্ষিত করে জাতি সংঘ সহ দেশ বিদেশে সুনামের সাথে কর্মজীবনে নিযুক্ত রযেছে। পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যানে তার অপরিসীম ভুমিকা আমাদেরকেও উৎসাহিত করে।

অপরের মঙ্গলে নিজের আত্বতৃপ্তি, তার সে বৈশিষ্ট আমাদের জীবনেও প্রতিফলিত হবে প্রতি পদে। তিনি মাদারীপুরের ডাসার-কালকিনি বাসীর কাছে পিতার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, আপনারা আমার পিতাকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন আমাদেরও আপনাদেও পরিবারের সদস্য মনে করে যেকোন প্রয়োজনে ডাকলে কাছে পাবেন। আপনারাই আমাদের আপনজন। যতদিন বেঁচে থাকবো আমরা আপনাদেও কাছে ঋণী হয়েই থাকবো। সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন বলেন, আমার বাবার পুর্ব ইচ্ছানুযায়ী তাকে এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফে দাফন করা হয়েছে। তার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

এদিকে সৈয়দ আবুল হোসেনের দীর্ঘ কালের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস তার কর্মকান্ডকে রাজনীতির আদর্শ বলে তাকে আখ্যা দিয়ে বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেনের মত আর কেউ হবেনা। তিনি দেশ, মানুষ ও আওয়ামীলীগের জন্য যা করে গেছেন তার ঋণ কখনো পুরুন হবেনা। তবে তার ও আমার ভিতরে বেদনা রয়েছে। আলোচিত পদ্মা সেতু হয়েছে ঠিকই। তবে নিরাপরাধ হলেও তাকে বদনাম দিয়েছে কুচক্রি মহল। দেরিতে হলেও ঠিকই প্রমান হয়েছে আবুল হোসেন নির্দোশ।

এর আগে গত বুধবার ভোরে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ খবর জানার পর থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা জুড়ে শোক বিরাজ করছে। শোকে বিহবল তার শ্বশুর সাজ্জাদানশীন পীর শ্বশুর খাজা কামাল উদ্দিন নুহু মিয়া সহ পুরো পরিবার ও অন্যান্য স্বজনেরা। তার স্মৃতি বিজরিত পবিত্র দরবার শরীফ সহ এখানে গড়া নিজ বাড়ির এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা।

বছরে কয়েক বার তিনি এনায়েতপুরে আসতেন ও মানুষের খোঁজ খবর নিতেন। যেকারো প্রয়োজনে থাকতেন পাশে। মৃত্যুকালে সৈয়দ আবুল হোসেন স্ত্রী, ২ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্বীয়-স্বজন, গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। এনায়েতপুরে নিজেদের জন্য আলাদা তিনি বাড়ি নির্মান করেছেন।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আবুল হোসেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বেতগ্রামে ১৯৫১ সালের ১ আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, লেখক সহ নানা গুনের অধিকারী। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। এরপর তিনি সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী ও ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি আওয়ামীলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন