রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছালো ইউরেনিয়ামের ষষ্ঠ চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈশ্বরদী : কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান রূপপুরে পৌঁছেছে। এ নিয়ে ইউরেনিয়ামের ষষ্ঠ চালান যোগ হলো পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে।
শুক্রবার সকালে ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর পাকশীর রূপপুর প্রকল্প এলাকার ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর রূপপুরে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আজ খুব ভোরে রাজধানী ঢাকা থেকে রওনা হয়। অন্যান্যবারের মতো এবারও সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আনা হয় ইউরেনিয়ামের চালান।
এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশেষ বিমানে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম জ্বালানির প্রথম চালান। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রথম জ্বালানি নেওয়া হয় রূপপুর প্রকল্প এলাকায়। গত ৫ অক্টোবর চালানটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ঐতিহাসিক এই কমিশনিংয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম জ্বালানির যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এতে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের মর্যাদা অর্জন হয়। এরপর ৬ অক্টোবর ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয়, ১৩ অক্টোবর তৃতীয়, ২০ অক্টোবর চতুর্থ ও ২৭ অক্টোবর পঞ্চম চালান রূপপুর প্রকল্পে এসে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রাশিয়া থেকে ঋণসহায়তা হিসেবে আসছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আগামী বছর প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চায়। একই বছর বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার আশা করছে তারা।




