ব্যাট রিওভাইরাস কতটা মারাত্মক?

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্বে প্রথমবার রিওভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৫০ সালে। এই ভাইরাসটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রাণঘাতীও হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
এরইমধ্যে দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচজনের শরীরে ব্যাট রিওভাইরাস শনাক্ত করেছে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)।তবে কারও ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।
গবেষকরা বলছেন, রিওভাইরাসের সাধারণত ৯টি ধরণ হয়। এর মধ্যে ৪টি ধরণ মানবদেহে পাওয়া যায়। আর বাকিগুলো অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত মানবদেহে পাওয়া যায়নি। এই রিওভাইরাসেরই একটি ধরণ ব্যাট-রিওভাইরাস প্রথমবারের মতো দেশে মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে।
তবে রিওভাইরাসের উপস্থিতি বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই আছে জানিয়ে গবেষকরা বলছেন, রোটা ভাইরাসও রিওভাইরাসের একটি ধরণ, যেটি আক্রান্তের কথা দেশের সচরাচরই শোনা যায়। তবে ব্যাট রিওভাইরাস দেশে প্রথম। এ ভাইরাসের উপস্থিতি সাধারণত বাদুড়ে পাওয়া যায়।
ব্যাট রিওভাইরাসটির বিষয়ে সতর্ক করে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শীত মৌসুমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নেয়ারও ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
ব্যাট রিওভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ-
গবেষকরা বলছেন, রিওভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। আক্রান্ত হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। মারাত্মক হলে নিউমোনিয়া, এমনিক এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। আর এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্করা।
কতটা মারাত্মক এই ভাইরাস?
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন গণমাধ্যমকে জানান, খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে প্রতিবছর নিপাহ ভাইরাসে অনেকে আক্রান্ত হন। তেমনই লক্ষণ দেখে সম্প্রতি ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে নিপাহ ভাইরাস না মিললেও পাঁচ জনের শরীরে পাওয়া গেছে ব্যাট রিওভাইরাস।
তাহমিনা শিরীনের দাবি, দেশে অনেক এনকেফালাইটিস রোগী পাওয়া গেছে। কিন্তু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই গবেষণা এসব রোগীর চিকিৎসায় কাজে দেবে।
এই ভাইরাস সংক্রমণ কারও কারও ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, এমনিক এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। বেশি আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্করা।
গবেষকদের মতে রিওভাইরাস সাধারণত মারাত্মক নয়। তবে শিশু ও বয়স্করা সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি তাদের জন্য জীবনহানির পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিরোধের উপায় কী?
রিওভাইরাসের প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) আছে যা শিশুদের জন্য দেয়া যেতে পারে। এছাড়া হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার ও খাবারের সুরক্ষা এই ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।




