নেইমারের ‘শততম’ কান্না
একটি ফিরে আসার গল্প, যা শেষ হলো চোখের জলে

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: লেখার শুরুতেই প্রশ্ন উঠে যায়-নেইমার কি আসলেই ফিরেছিলেন? নাকি তার ফিরে আসার চেষ্টাটা ছিল শুধুই শরীরের সঙ্গে এক অসম যুদ্ধ?
ভিলা বেলমিরোর আলো, ‘১০০’ নম্বর জার্সি, গ্যালারিভরা দর্শক, আর হাওয়ায় ভাসতে থাকা প্রত্যাশার ঘ্রাণ-সব মিলিয়ে রাতটা হতে পারত স্বপ্নময়। সান্তোসের হয়ে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নেইমার, শৈশবের মাঠে ফিরেছিলেন এক যুদ্ধজয়ের আশায়। কিন্তু যে গল্পের শুরুতে ছিল নস্টালজিয়া আর আবেগ, সেটি শেষ হলো চিরচেনা এক দৃশ্য দিয়ে-চোট পাওয়া নেইমার, কান্নাভেজা চোখ, আর কার্টে করে মাঠ ছাড়ার করুণ দৃশ্য।
খেলার শুরুতেই বোঝা যাচ্ছিল, কিছু একটা ঠিক নেই। দুই উরু মোটা টেপে মোড়ানো, ছন্দহীন দৌড়, আর মাঝেমধ্যেই নিজের শরীরের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ব্যর্থ এক তারকা। তবুও সান্তোস এগিয়ে যায় ২-০ গোলে, যেন খেলার স্কোরবোর্ডে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না নেইমারের ভেতরের যুদ্ধের।
৩৪ মিনিটে সেই যুদ্ধ থামে। বাঁ উরুতে হাত রেখে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ইশারা দেন বদলির জন্য। মাঠে বসে পড়েন, চোখের কোণ গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। গ্যালারি থেমে যায়, করতালির জায়গা নেয় নিস্তব্ধতা। নেইমার উঠে যান না, তাকে তুলতে হয়। কার্টে বসিয়ে মাঠ থেকে বের করে আনা হয় সেই মানুষটিকে, যিনি ছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের স্বপ্নের নাম।
এই দৃশ্য নতুন নয়। ২০১4 বিশ্বকাপ, প্যারিসের দিনগুলো, এমনকি আল-হিলালেও একই চিত্র বহুবার দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। নেইমারের গল্পটা যেন প্রতিবারই একই: আলোতে ফেরা, চোটে থেমে যাওয়া, আর কান্নাভেজা প্রস্থান।
তবে এবার ব্যাপারটা একটু আলাদা। কারণ এটা সান্তোস। এটা তার শুরু, তার শেকড়। এই ক্লাবের হয়েই পাখনা মেলেছিলেন, এবার ফিরে এসেছিলেন ভাঙা পাখনায় ভর দিয়ে। প্রশ্ন উঠছেই-এই ফিরে আসাটা কি সময়ের আগেই হয়ে গেল?
ক্লাব বা মেডিকেল টিম এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু বলেনি। তবে সেই বাঁ উরুই আবার ভোগাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রবল। যেটি ছিল তার কেরিয়ারের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা।
নেইমার কি আর ফিরতে পারবেন? নাকি এবার বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেল নিঃশব্দে?
প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিত যেটুকু বলা যায়-নেইমারের শততম ম্যাচ স্মরণীয় হলো ঠিকই, তবে তা হাসির জন্য নয়, এক দীর্ঘশ্বাসের জন্য।




