দেশে আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করেছে।

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে আবারও চালু হচ্ছে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে যেসব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব রয়েছে, সেখানেই নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিদেশ থেকেও কিট আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিএমএসডিকে।
তিনি আরও জানান, ‘‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করতে পারব। তবে শুরুতে তা সীমিত পরিসরে চালু হবে। যাদের উপসর্গ থাকবে, তারাই কেবল পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। সংক্রমণের হার বাড়লে পরীক্ষা আরও সম্প্রসারিত হবে।’’
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে- এতে বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ছুটি শেষে ঢাকায় জনসমাগম বাড়লে সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে পারে। তাই এখনই মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
গত এক সপ্তাহে আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় শহর হয়ে উঠছে কর্মচঞ্চল। এর ফলে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯.৩৫ শতাংশ। তবে এ সময় কেউ মারা যাননি। আক্রান্তদের সবাই ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা।
এর আগে ৯ জুন ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন। সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ জনে এবং মোট মৃত্যু ২৯ হাজার ৫০০ জনে। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৮০ জন।
সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯ জুন থেকে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করেছে। বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে হেলথ স্ক্রিনিং অব্যাহত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকা এবং মাস্ক পরার মাধ্যমে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে সরকারি প্রচারণা জোরদারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।




