রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ৩৪ নেতা
কে পাবেন টিকিট- তা নির্ধারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে দলীয় হাইকমান্ডকে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীর রাজনীতির মাঠে ফিরেছে উত্তাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা ঘোষণার পর তৎপর হয়ে উঠেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জেলার ছয়টি আসনে এবার দলটির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন অন্তত ৩৪ জন নেতা।
প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে কেউ দলের হাইকমান্ডে দৌড়ঝাঁপ করছেন, কেউ এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার, পোস্টার ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে অনেকেই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামায় কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ কোন্দলও দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী)
গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত ছয় নেতা। তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল, সুপ্রিমকোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান মার্কনি, জিয়া পরিষদের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব।
মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। প্রচারণা চালাতে বিভিন্ন সময় মহড়া দেওয়াসহ নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন। এ সময় তাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রাজশাহী-২ (সদর)
রাজশাহীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এলাকাটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর বেশ কয়েকবার দলটির প্রার্থীরা এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিএনপির তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। এর পরই জল্পনা-কল্পনার শীর্ষে আছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ আসনে এবার ভোট করতে চান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। তারা সবাই মাঝে-মধ্যে গণসংযোগ করছেন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর)
আসনটির সীমানা মহানগরীর চারপাশে হওয়ায় সব দলের কাছেই অতি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিএনপির আধিপত্য বেশ। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনজন। তাদের অন্যতম দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। অপর দুজন হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল ইসলাম রায়হান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত অ্যাডভোকেট কবির হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন অস্থির। এদের মধ্যে শফিকুল হক মিলন ও রায়হানুল ইসলাম রায়হান সক্রিয় রয়েছেন ভোটের মাঠে।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা)
বিএনপি নেতাদের তৎপরতায় এ আসনের রাজনীতির মাঠ বেশ উত্তপ্ত। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে হাফ ডজনের বেশী নেতা। যারা বিভিন্নভাবে দল ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও আমেরিকা প্রবাসী ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. আশফাকুর রহমান শেলী এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার সালেকুজ্জামান সাগর, সুপ্রিম কোটের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান। এদের মধ্যে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ডিএম জিয়া, কামাল হোসেন ও রেজাউল করিম টুটুল।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর)
দুই উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত হওয়ায় বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীও বেশি। এবার তৎপর অন্তত আট নেতা। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রিয় মুখও আছেন।
তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শিল্পপতি ও সমাজসেবক মোহাম্মাদ আবদুস সাত্তার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, শ্রমিকদল নেতা রোকনুজ্জামান আলম, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল হক শিমুল ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলকার নাঈম মোস্তফা।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট)
পদ্মাপাড় ঘেঁষা আসনটি পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোটযুদ্ধের ময়দান। এখানেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে জোর প্রতিযোগিতা। যা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই উত্তপ্ত করছে।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছয়জন। তারা হলেন- জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিক, বাঘা উপজেলার বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমান। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবার সবাই ভোটের মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজশাহীর রাজনীতি ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি শিবিরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই প্রতিযোগিতা আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলবে। তবে কে পাবেন টিকিট- তা নির্ধারণে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে দলীয় হাইকমান্ডকে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




