দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দেশে গড়ে ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। সংখ্যায় যা প্রায় ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার। এসব মানুষ আয় নয়, বরং সেবা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে এই দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (MPI) প্রকাশ করে।
এই সূচকে একজন মানুষের আয় নয়, বরং তার জীবনের নানা মৌলিক চাহিদা-যেমন বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, শিক্ষা, স্যানিটেশন, আবাসন, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি ১১টি সূচকের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলার চিত্র
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বহুমাত্রিক দারিদ্র্য দেখা গেছে বান্দরবানে-যেখানে ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষ এসব মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এরপর রয়েছে কক্সবাজার (৪৭.৭০%), সুনামগঞ্জ (৪৭.৩৬%), রাঙামাটি (৪৫.৮৯%) এবং ভোলা (৪৫.১২%)।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম দারিদ্র্য রয়েছে ঝিনাইদহে-মাত্র ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর পরে রয়েছে ঢাকা (৯.১৯%), গাজীপুর (৯.৬৩%) এবং যশোর (১০.৫৮%)।
বিভাগ ও বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য দেখা গেছে সিলেট বিভাগে এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ২৮.৬৪ শতাংশ এবং ১০-১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৮.৮৩ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ২১.৪৪ শতাংশ।
পুরোনো উপাত্ত, বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন
তবে এই সূচকের ভিত্তি হিসেবে ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (HIES) এবং ২০১৯ সালের বহু সূচক গুচ্ছ জরিপ (MICS) ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই প্রতিবেদন কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
প্রতিনিধি ও আলোচকদের মতামত
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই পদ্ধতি একটি সৃজনশীল উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে টার্গেটেড উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আখতার, ইউএনডিপির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, পিপিআরসি চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইডিএস মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক।
তাঁদের মতে, প্রাপ্ত ফলাফল নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সময়োপযোগী নতুন জরিপের ভিত্তিতে হালনাগাদ MPI জরুরি হয়ে পড়েছে।




