আবারও ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৫; সময়: ১১:৪৪ am | 
খবর > অর্থনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: চট্টগ্রামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার। জুলাই মাসের শুরুতে এক দফা দাম বাড়ার পর মাসের মাঝামাঝিতে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন আবার সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। জেলার উপজেলা পর্যায়ে এই বৃদ্ধির হার আরও বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, কিছু অসাধু মিল মালিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত করে রেখেছে। এতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

চাল ছাড়াও সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, ডাল, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ নিয়মিত বাজার তদারকি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাক্তাই চালপট্টিতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অতিরিক্ত চাল মজুত ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসার কারণে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও বেশ কয়েকটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

চাক্তাইয়ের পাইকারি বাজারে মোটা সিদ্ধ চাল এখন বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩,৬০০ থেকে ৩,৮০০ টাকায়, মিনিকেট আতপ ৪,২০০ থেকে ৪,৩০০ টাকা, দিনাজপুরী পাইজাম ৪,৪০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, আর কাটারিভোগের দাম ৪,৪০০ টাকার ওপরে। স্বর্ণা সিদ্ধ চাল ৩,৪০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা, নাজিরশাইল সিদ্ধ ৩,৭০০ থেকে ৪,১০০ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ ৪,২০০ থেকে ৪,৪০০ টাকা এবং চিনিগুঁড়া চাল প্রায় ৬,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারেও কেজিপ্রতি চালের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চিকন নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকায়, মিনিকেট ৮০-৮৫ টাকা, বিআর-২৮/২৯ ৬২-৬৫ টাকা, আর মোটা চাল ৫৬-৫৮ টাকায়।

এছাড়া দুই দিনের ব্যবধানে বাড়তি দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে সয়াবিন, ডাল ও তেলেও। মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১২৫ টাকায়, ছোট দানার ১৩০-১৪৫ টাকা, মুগ ডাল ১২০-১৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৬০-৮০ টাকা। সয়াবিন তেল (২ লিটার বোতল) ৩৭৫-৩৭৮ টাকা এবং খোলা পামঅয়েল ১৫০-১৫৫ টাকা, সুপার পামঅয়েল ১৫২-১৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামও বেড়েছে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে।

ডালের পাশাপাশি অন্যান্য শুকনো পণ্যের দামও বাড়তি। মাষকলাই ডাল ১৮০, ডাবলি ৬০, ছোলা ১১০, কাজু বাদাম ১,৭০০, পেস্তা বাদাম ২,৭০০, কাঠ বাদাম ১,২২০, কিশমিশ ৬০০-৭০০, দারুচিনি ৫২০, লবঙ্গ ১,৪০০, কালো গোলমরিচ ১,৩০০, সাদা গোলমরিচ ১,৬০০ এবং জিরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। টানা বর্ষণের প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে। পটোল ৫০, করল্লা ৬০-৮০, বরবটি ৭০-৮০, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০-৭০, টমেটো ১২০-১৩০ এবং বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শসার দাম—হাইব্রিড শসা ৭০-৮০ টাকা এবং দেশি শসা ১১০-১২০ টাকা।

তবে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে তা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়।

মুরগি ও মাছের বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। বিভিন্ন মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী-কই ২০০-২৩০, শিং ৩৫০-৪৫০, রুই ও কাতল ৩০০-৪৫০, পাঙাশ ১৮০-২৫০, চিংড়ি ৬০০-৯৫০, পাবদা ৩৫০-৪৫০ টাকা।

তবে ইলিশের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

অভিযোগ উঠেছে, বাজারে তদারকির ঘাটতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবে ক্রমাগতভাবে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। দিনদিন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন