কলকাতায় পার্টি অফিস থেকে চলছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: কলকাতা ও তার আশেপাশের এক উপনগরীর বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের আট তলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু হয়েছে। ঢাকায় যে ভবনটি আগে আওয়ামী লীগের সদর দপ্তর ছিল, সেটির পরিবর্তে ভারতে শীর্ষ নেতাদের আনাগোনা বাড়ায় গত এক বছর ধরে কলকাতার এই অফিস থেকে দলীয় কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
পরিচিতি গোপন রাখতে অফিসে কোনো সাইনবোর্ড, বঙ্গবন্ধু বা শেখ হাসিনার ছবি নেই। এখানে ফাইলপত্রও রাখা হয় না, কেবল নিয়মিত বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হয়। ৩০-৩৫ জনের ছোটখাটো বৈঠক হয় এই ঘরে, বড় সভার জন্য রেস্তোরাঁ বা ব্যাংকোয়েট হল ভাড়া করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন দলের শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। অন্তত ৭০ জন সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়রসহ প্রায় ২০০ নেতাকর্মী কলকাতা ও আশপাশে অবস্থান করছেন। কেউ পরিবারসহ বসবাস করছেন, কেউবা একসঙ্গে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
দলের ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ড হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও লাইভ অনুষ্ঠান মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গত ৩১ জুলাই দিল্লিতে শেখ হাসিনা কিছু শীর্ষ নেতাকে বৈঠকে ডেকেছিলেন, তবে নিয়মিত দেখা হয়নি।
একদিকে দেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছেন বলে সমালোচনা উঠলেও, দল মনে করে ভারতে থেকে নিরাপদে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে। সাবেক এমপি পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, প্রবাসে থেকে দল পরিচালনা করার নজির বিশ্ব রাজনীতিতে বহু আছে।
নিষিদ্ধ ছাত্র লীগের সভাপতি সাদ্দাম হুসেইনও ভারতে রয়েছেন। ছাত্রলীগ ও অন্য অনেক কর্মী বাংলাদেশে নানা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভারত ও দেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়নে চালানো হচ্ছে পার্টি অফিস ও নেতাদের যাবতীয় খরচ। জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য নেতারা গণপরিবহন ব্যবহার করছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে রাজনৈতিক লড়াই হয় না, তবে লড়াই ছাড়া উপায়ও নেই। সূত্র- বিবিসি বাংলা




