মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তোড়জোড়

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৫; সময়: ৩:১৩ pm | 
খবর > তথ্য-প্রযুক্তি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসব সেন্টার চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জমির প্রয়োজন হয়, যার ফলে কার্বন নিঃসরণও বাড়ছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

এই বাস্তবতায় বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি এখন মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে- যেখানে নিরবচ্ছিন্ন সৌরশক্তি পাওয়া যায়, মেঘ বা রাতের বাধা নেই, আর জমিরও প্রয়োজন হয় না। ইউরোপীয় প্রকল্প ASCEND ইতোমধ্যে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। ফ্রান্সের থ্যালিস অ্যালেনিয়া স্পেসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ উদ্যোগ সফল হলে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ আরও পরিবেশবান্ধব হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দরকার। রকেট উৎক্ষেপণের সময়ও কিছু কার্বন নির্গমন ঘটে। ASCEND-এর হিসাব অনুযায়ী, মহাকাশে ডেটা সেন্টার কার্যকর করতে বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ কম কার্বন নির্গমনকারী লঞ্চারের প্রয়োজন হবে।

এদিকে, আবুধাবিভিত্তিক স্টার্টআপ মাদারি স্পেস ২০২৬ সালে মহাকাশে প্রথম ক্ষুদ্র ডেটা সেন্টার পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য, স্যাটেলাইটে সরাসরি তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডেটা বিশ্লেষণের সময় কমানো।

মাদারির প্রধান নির্বাহী শারিফ আল রোমাইসি বলেন, “এটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাবে।”

চীন ইতোমধ্যেই মহাকাশে ১২টি ডেটা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে, যা ২ হাজার ৮০০ স্যাটেলাইটের বৃহৎ কনস্টেলেশনের প্রথম ধাপ। যুক্তরাষ্ট্রের স্টারক্লাউডও নভেম্বরে এনভিডিয়া–চালিত উচ্চক্ষমতার স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে সব বিশেষজ্ঞ আশাবাদী নন। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুয়েন্টিন পার্কার বলেন, “পৃথিবীতেই এখনো অনেক কার্যকর বিকল্প আছে, যা মহাকাশে স্থাপনের তুলনায় অনেক সস্তা।”

তিনি সতর্ক করেন, মহাকাশে রেডিয়েশন, আবর্জনা ও সোলার ফ্লেয়ারের মতো ঝুঁকি রয়েছে, যা ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

তবুও উদ্যোক্তারা বলছেন, মহাকাশে স্থানান্তর ভবিষ্যতের অবশ্যম্ভাবী ধাপ। আল রোমাইসির মতে, “এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা প্রয়োজন- না হলে একসময় শুধু ডেটা সেন্টার চালাতেই আমাদের সম্পদ ফুরিয়ে যাবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন