তানোরে দুই দিনের টানা বর্ষণে ডুবেছে পাঁকা ধান, ভেষে গেছে পুকুরের মাছ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৫; সময়: ৬:৩৮ pm | 
খবর > কৃষি

সাইদ সাজু, তানোর: বুধবার দিবাগত রাত ও শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তানোর উপজেলায় দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণ হয়েছে। এই কারণে জনসাধারণ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট এবং পুকুর খালে পানি প্রবেশ করেছে। তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া, কামারগাঁ, পাঁচন্দর ও কলমা ইউনিয়ন এবং তানোর পৌরসভায় রোপা আমন পাঁকা ধান ডুবে গেছে।

অপরদিকে, শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ো হাওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি রঙে পাক ধরা ধান হঠাৎ দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে।

তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হান্নান, তোফাজ্জল, বাদল ও হাসান আলী বলেন, “দুই দিনের টানা ঝড় ও বৃষ্টির পানি আমাদের মাঠের ধান পুরোপুরি লুটিয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে ধানের ক্ষতি মারাত্মক হবে।”

তানোর পৌর এলাকার ধানতৈর গ্রামের কৃষক নিষান বলেন, “আমন ধানের জমিতে যে পরিমাণ পানি ঢুকেছে, তা দ্রুত নিষ্কাশন না হলে গাছ গজাতে পারবে না। ইতিমধ্যে উজান থেকে আরও পানি নামছে। প্রতি ব্রিজের মুখ দিয়ে প্রবাহমান পানি ক্ষতি বাড়াচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এই বছরের রোপা আমন রোপণের সময় থেকে বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে।

কৃষকরা জানাচ্ছেন, শনিবার সকালে বৃষ্টি থামলেও আকাশে মেঘ জমে রয়েছে। তাই পুনরায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া জমির ধান ও পুকুরের মাছের ক্ষতি তাদের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়া সবজি খেতেও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর, পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদপুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর, চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর ও সিলিমপুর ৫ হেক্টর এবং তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবে গেছে।

সবমিলে ২০৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬ হেক্টর সম্পূর্ণভাবে এবং ১৫৭ হেক্টর আংশিকভাবে ডুবে গেছে। কলমা ইউনিয়নের আজিজপুর, চন্দনকোঠা ও কুজিশহরসহ অন্যান্য এলাকার ডুবন্ত ধানের তথ্য কৃষি অফিস দিতে পারেনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, “উপজেলায় রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে ২২,৪৩৫ হেক্টর জমিতে। ডুবে গেছে ৪৬ হেক্টর সম্পূর্ণভাবে এবং আংশিকভাবে ১৫৭ হেক্টর। বৃষ্টি বন্ধ হলে এবং তিন-চার দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশন হলে ধানের ক্ষতি কম হবে। এর বেশি সময় পানি জমে থাকলে ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন