কুকুরছানা ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫; সময়: ৫:৫৩ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : পাবনার একটি সরকারি আবাসিকে কুকুরছানা ব্যাগে ভরে পুকুরপাড়ে রেখে যাওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে যেই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁকে ঘিরে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছেন—ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে, স্বাভাবিক তদন্তের আগে তাঁকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর পরিবার বলছে—তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত, মিডিয়া কাভারেজে অপমান, দায়িত্বহীনতার অভিযোগও তুলেছে তারা। তাদের দাবি, এ ঘটনায় তাড়াহুড়ো করে তাকে সরকারি কোয়ার্টার ছাড়তে বলা, মিডিয়ার কঠোর সমালোচনার মুখে পড়া, মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হওয়া এবং কারাগারে পাঠানো—এসব তার ও তার শিশুসন্তানের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, ওই নারী কুকুরছানাগুলোকে হত্যা করেননি, বরং সরকারি কোয়ার্টারের সিঁড়িঘরে জায়গা না থাকায় এবং নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকে ব্যাগে করে পুকুরপাড়ে একটি গাছের নিচে রেখে এসেছিলেন । তাঁরা দাবি করেন, এটি ভুল সিদ্ধান্ত হলেও উদ্দেশ্য ছিল নিজের দুই বছরের শিশুকে কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

পরিবারের বক্তব্য—সরকারি কোয়ার্টারের সিঁড়িঘরে কুকুর কীভাবে বাচ্চা দিল—এটাই বড় প্রশ্ন। পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা দায়িত্বে যারা আছেন, তারা কি তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছেন?

তাদের যুক্তি, একটি প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়িঘরে কুকুরের বাচ্চা থাকা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, গ্রামের কুকুরগুলো খুবই আগ্রাসী এবং ওই নারীর দুই বছরের বাচ্চাকে নিয়ে তাঁর ভয় পাওয়া যৌক্তিক ছিল।

ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়। পরিবার দাবি করছে, ঘটনার প্রেক্ষাপট না জেনেই তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই ঘটনায় আমাদের বোনকে অপমানিত হতে হয়েছে। ন্যায়বিচারের আগেই তাকে সমাজের সামনে অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে প্রশ্ন তুলেছে—এলাকাটিতে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেনো যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়নি। পরিবারের দাবি, দায়িত্বহীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তারা জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করা হয়। ঘটনার সাথে সম্পর্কিত মামলায় ওই নারী পরে জামিন পেলেও পরিবার মনে করে—তার বিরুদ্ধে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কঠোর ছিল। তারা দাবি করেন,ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ঘটনাটির সব দিক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়ভাবে অনেকে মনে করছেন, মানবিকতা, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব—তিনটি বিষয় মিলিয়ে ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। ভুক্তভোগী পরিবারও নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন