রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদে তৃতীয় পক্ষ নয়, ‘বোঝাপড়ার অভাব’-মুখ খুললেন পরীমনি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনি ও অভিনেতা শরীফুল রাজের বিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি। দীর্ঘদিনের নানা গুঞ্জনের মধ্যে এবার তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পরীমনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিচ্ছেদ, সংসার ভাঙন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানে পরীমনি জানান, তাদের বিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হাত নেই।
পরীমনির ভাষ্য, বোঝাপড়ার পার্থক্যের কারণেই সম্পর্ক ভেঙেছে। তিনি বলেন, “সংসার টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করতে হয়-এটা সে জানে না। আবার কারও চেষ্টাকে সমর্থন জানাতেও হয়-সেটাও জানে না।”
বিনোদন অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচলিত ধারণাকেও ভুল বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তার কারণে রাজ সন্তানের খোঁজ নিতে পারেন না-এমন কথা সত্য নয়। বরং তিনি চান, রাজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সন্তানের বিষয়ে সচেতন থাকুক।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে পরীমনির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ করেন শরীফুল রাজ। একই সঙ্গে তাদের বিয়ের বিষয়টিও সামনে আসে। পরে দুজনই জানান, ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট জন্ম নেয় তাদের ছেলে শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য।
সন্তান জন্মের পরও দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলতে থাকে। বিভিন্ন সময় মান-অভিমান ও মনোমালিন্যের পর একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও তা স্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে রাজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকজন চিত্রনায়িকার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর সম্পর্কের অবনতি আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ কার্যকর হয়।
বিচ্ছেদের পর দুজনই অভিনয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পরীমনিকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায়। তিনি নতুন করে ‘শাস্তি’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যেখানে তার সহশিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ডোডোর গল্প’ এবং নিরবের সঙ্গে ‘গোলাপ’ সিনেমার কাজ শুরুর কথাও রয়েছে।
অন্যদিকে শরীফুল রাজকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘ইনসাফ’ সিনেমায়। সামনে তার অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘জীবন অপেরা’সহ আরও কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।




