‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়বে বিএনপি: তারেক রহমান

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬; সময়: ১১:০০ pm | 
খবর > নির্বাচন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দেশের প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণে একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপির কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সব সেক্টর ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলের সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী, বেকার জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ভাষণের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে এসেছে।

গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছে। ‘আয়নাঘর’কে তিনি জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশে তরুণ ও বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য বড় কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও সার-বীজে ভর্তুকি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ চালু রাখা হবে বলে জানান তিনি। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন, নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক পরিবহন চালু, সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শহরে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।

শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশ নারী। তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেবেন।

প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। সময়মতো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার বন্ধ করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ও বেকার ভাতার মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ ঋণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

ধর্মীয় বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” -এই নীতিতে সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মগুরুর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা থাকবে।

ভাষণের শেষ অংশে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তারেক রহমান। অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব দিন, ১৩ তারিখ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব নেবেন। তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে দেওয়ার জন্য।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন