গম চাষে ঝুঁকছেন পোরশার কৃষক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬; সময়: ৫:১১ pm | 
খবর > কৃষি

এম রইচ উদ্দিন, পোরশা: চলতি রবি মৌসুমে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় গত বছরের তুলনায় গমের আবাদ বেড়েছে। তুলনামূলক বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় কৃষকরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় এবার ২৮৫ হেক্টর বেশি জমিতে গমের চাষ হয়েছে।

এবার কৃষকরা উন্নত জাতের গম—ডব্লিউএমআরআই-২, বারী-৩০, বারী-৩২ ও বারী-৩৩—চাষ করেছেন। গম চাষে সেচ ও শ্রমিক খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা বেশি বলে জানান তারা। নতুন উদ্ভাবিত জাতের গম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম হওয়ায় ফলনও ভালো হচ্ছে।

উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষিপুর ঝর্ণা গ্রামের গমচাষী ইসমাইল হোসেন ও রনি আহম্মেদ জানান, এ বছর ইসমাইল ১০০ বিঘা এবং রনি ৭ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের গমের চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকা। বীজ বপন থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেচ দিলেই হয়। তারা আশা করছেন, ফলন ভালো হলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ২ মেট্রিক টন গম উৎপাদন সম্ভব হবে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল বিশেষ করে পোরশা উপজেলায় পানির সংকট প্রকট। দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে কম পানিতে গম চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রণোদনা, প্রদর্শনী ও বীজ সহায়তার আওতায় উন্নত জাতের গমের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। গম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে আগামী মৌসুমে গমের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন