রাজশাহীতে আ.লীগ নেতাকে ড্রেনে ফেলে পিটুনি, মোটরসাইকেল ছিনতাই

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬; সময়: ৯:১৬ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধর করে ড্রেনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মোটরসাইকেলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে নগরের শাহমখদুম থানা সংলগ্ন পবা নতুনপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী ফিরোজ খান ফরহাদ শাহমখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও মাঝে মধ্যে এলাকায় আসতেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে এ ঘটনার শিকার হন বলে জানা গেছে।

মারধরের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি। বর্তমানে গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফিরোজ খানের অভিযোগ, শাহমখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আলী, তার আত্মীয় মো. শাকিব, লালন ও মনাসহ কয়েকজন তাকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে গেছে এবং হাত ও কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তার হাতে প্লাস্টার ও কোমরে বাঁশের বাতা দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, তার নামে কোনো মামলা নেই। ঘটনার দিন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নামানোর পরই হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থানার কাছে হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফিরোজ খান আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর তার ১১০ সিসির একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল নিয়ে যান শাকিব। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, মোটরসাইকেলটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন আলী প্রথমে ঘটনা অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে ফিরোজ যে নির্যাতন করেছে, এলাকার মানুষ তাকে পেয়ে শায়েস্তা করেছে।” তবে এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. শাকিবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং মোটরসাইকেল নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি শোনা গেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। থানায় কোনো মোটরসাইকেল জমা দেওয়া হয়নি এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন