সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে দুটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার সংসদে কণ্ঠভোটে বিল দুটি অনুমোদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ পেল।
পাস হওয়া বিল দুটি হলো- ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ এবং ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন ও স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল’। বিল দুটি উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী।
সংসদে বিল দুটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় আলোচনা ছাড়াই দ্রুত কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় আট মিনিট। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের সদস্যদের দৃশ্যত অংশগ্রহণও দেখা যায়নি।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধনসহ অনুমোদনের সুপারিশ করে। এছাড়া ৪টি বাতিল এবং ১৬টি নতুন করে শক্তিশালী বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
রোববার থেকে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদনের লক্ষ্যে বিল পাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাস হওয়া দুটি বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে এবং আলোচনার সুযোগ থাকবে। তিনি জানান, রোববারের বিল দুটি সর্বসম্মত সুপারিশের ভিত্তিতে আনা হয়েছে।
নতুন আইনের ফলে বিসিএসসহ সব ক্যাডার এবং ক্যাডারবহির্ভূত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ সব স্বশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগেও এই বয়সসীমা প্রযোজ্য হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়। তবে বিভিন্ন নিয়োগবিধিতে ভিন্ন বয়সসীমা থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। তা নিরসনেই সংশোধন আনা হয়েছে।
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এ সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।
আইনে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করা, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া বা অন্যকে প্ররোচিত করা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মবিরতি বা অনুপস্থিত থাকাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের অসদাচরণের জন্য শাস্তি হিসেবে নিম্নপদে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।




