পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী পদে কারা আলোচনায়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক ধাপে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রায় ৯ ঘণ্টার গণনা শেষে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে দলটির এগিয়ে থাকার প্রবণতা দেখা গেছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং বিপুল সংখ্যক আসনে লিড ধরে রেখেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে- কে হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একজন বাঙালিকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস-এর ‘বহিরাগত’ ইস্যুর পাল্টা জবাব দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়।
শুভেন্দু অধিকারী
বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত হয়েছেন। অতীতে তৃণমূল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
শমীক ভট্টাচার্য
বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যও আলোচনায় রয়েছেন। আরএসএস ঘরানার এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। রাজ্য রাজনীতিতে দলের ভিত্তি বিস্তারে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
স্বপন দাশগুপ্ত
সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্য বিজেপির বুদ্ধিবৃত্তিক মুখ স্বপন দাশগুপ্তও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, যদিও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাকে কিছুটা পিছিয়ে রাখছে।
দিলীপ ঘোষ
বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। দলের ভেতরে এখনও তার প্রভাব রয়েছে।
সুকান্ত মজুমদার
বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুকান্ত মজুমদারও আলোচনায় আছেন। উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে দল যদি নেতৃত্ব বেছে নিতে চায়, তাহলে তিনি হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস-এর শাসন চললেও এবারের নির্বাচনে চিত্র ভিন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপি।




