মমতার ১৫ বছরের শাসনের অবসান

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটেছে। রাজ্যপাল আরএন রবি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১১ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজ্যপাল আরএন রবি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।”
গত ৪ মে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ২০০টির বেশি আসনে জয় পায়। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পায় দলটি।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ না করায় সাংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর মধ্যেই রাজ্যপাল মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। এখন নতুন সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি।
এদিকে সরকার গঠনের আগেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৬ মে) রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। আহত হন গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেড়া।
ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এই হত্যাকাণ্ডে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও দলটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সব সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে তৃণমূল।




