চার সীমান্তে ৮৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধা

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬; সময়: ১০:০৮ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৮৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা (নো ম্যানস ল্যান্ড) ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ২৮ জন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের ১০টি পৃথক অনুপ্রবেশচেষ্টার ঘটনা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করে বিজিবি।

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীমান্ত টহল জোরদার করলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওইসব এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সকালে শূন্যরেখায় লাগেজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেখা গেছে।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জনকে শনাক্ত করার পর সতর্ক করা হলে তারা ভারতীয় অংশে ফিরে যায়। এদের পরিচয় যাচাইয়ে ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে হাতীবান্ধা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করে বিজিবি। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হয়। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

পাটগ্রাম সীমান্তে আরও ১০ জনকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে সেটিও ব্যর্থ করে দেওয়া হয় বলে জানায় বিজিবি। তারাও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। কঠোর নজরদারির কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেনি।

ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই ১০ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

বড়বাড়ি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় আপাতত গ্রহণ করা হয়নি।

বিজিবি ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

নওগাঁ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির দ্রুত তৎপরতায় তারা প্রবেশ করতে পারেননি।

বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ২৮ জন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে তারা মানবেতর অবস্থায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে ভারতে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

১৬ বিজিবির অধিনায়ক জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

বিজিবি জানায়, সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন