বাগমারায় বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার নামে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি, কবিরাজ কারাগারে

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬; সময়: ৭:৩৫ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় বন্ধ্যাত্ব দূর করার কথা বলে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত কবিরাজ মাহাবুর রহমানকে (৪৮) আটক করে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তাহেরপুর হরিফলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলার এক গৃহবধূ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকেলে কবিরাজ মাহাবুর রহমানের বাড়িতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করলে মাহাবুর রহমান বিষয়টিকে চিকিৎসার অংশ বলে দাবি করেন। পরে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত কবিরাজ বাড়ির দোতলায় আশ্রয় নেন। পরে তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে বাগমারা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং মাহাবুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওই নারীর ভাষ্য, তিন মাসের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছিল। তিনি প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এর আগেও তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, মাহাবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়ির নিচতলায় কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ২০২৩ সালেও একই ধরনের অভিযোগে র‌্যাব-৫ তাকে আটক করেছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, কবিরাজ মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা হয়েছে। তাকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন