লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬; সময়: ৭:০৫ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা: নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহরণের আড়াই মাস পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গত ২৮ মার্চ কর্মস্থল থেকে পুলিশের পোশাক পরা একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের ভাই লিবিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীর ত্রিপোলির তাজুরা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর কর্মস্থলে ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরা একদল সন্ত্রাসী মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ভাইকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আরও ৩১ বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

জিল্লুর রহমানের দাবি, জিম্মিদের মধ্যে পাঁচজন মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পান। আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা যায়। তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি দেখে আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আলমগীরের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি দেশে ফিরিয়ে আনতে দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, তার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিবারের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সোমবার রাতে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন