নাটোরের এক বাড়িই যেন ‘এক টুকরো জার্মানি’

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬; সময়: ৭:২৪ pm | 
খবর > খেলা

আশরাফুল ইসলাম, নাটোর : বাড়ির সামনে ফুটবল মাঠের আদলে সাজানো খোলা জায়গা। চারপাশজুড়ে উড়ছে জার্মানি ও বাংলাদেশের পতাকা। মাঠে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নামফলক। দিনের আলোয় পতাকার রঙিন আবহ আর রাতের বেলায় বাহারি আলোকসজ্জা—সব মিলিয়ে বাড়িটি যেন পরিণত হয়েছে এক দর্শনীয় স্থানে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

বাড়ির দেয়াল, দরজা, জানালা থেকে শুরু করে টিনের চাল পর্যন্ত আঁকা হয়েছে জার্মানির জাতীয় পতাকার রঙে। কালো, লাল ও হলুদ রঙের সমন্বয়ে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে পুরো বাড়ি। এমনকি বাড়ির আঙিনার গাছপালাও রাঙানো হয়েছে জার্মান পতাকার আদলে। বাড়ির সামনের বাগানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে একটি বিশেষ মঞ্চ। সেখানে জার্মানির পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও খেলোয়াড়দের ছবি শোভা পাচ্ছে। রাত নামলেই আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে পুরো এলাকা। যেন নাটোরের বুকে গড়ে উঠেছে ‘এক টুকরো জার্মানি’।

ব্যতিক্রমী এই বাড়িটি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর মহল্লায়। বাড়ির মালিক জার্মানিপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. সাগর কস্তা। বর্তমানে তিনি জার্মানিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকলেও নিজের গ্রামের বাড়িতে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রিয় দেশটির প্রতি ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির প্রতিটি অংশে জার্মানির পতাকার রঙের ছাপ। চারপাশে টাঙানো হয়েছে নানা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও স্থান পেয়েছে সাজসজ্জার অংশ হিসেবে। বাগানের গাছগুলোতেও কালো, লাল ও হলুদ রঙে আঁকা হয়েছে জার্মান পতাকার নকশা। পুরো বাড়িজুড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা, যা রাতের বেলায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ডা. সাগর কস্তার মা কানন কস্তা বলেন, “আমার ছেলে জার্মানিতে থাকে। সে দেশটিকে খুব ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। তার সেই ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেই আমরা বাড়িটিকে জার্মানির পতাকার রঙে সাজিয়েছি। সামনে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরেও আমাদের এই আয়োজন। এখন সবাই আমাদের বাড়িকে ‘জার্মান বাড়ি’ নামে চেনে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার সন্তানের জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন সে সুস্থ ও ভালোভাবে জার্মানিতে থাকতে পারে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন