মেসির কাছ থেকে শেখা খুব কঠিন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: লিওনেল মেসির প্রতিভা এতটাই ব্যতিক্রমী যে তার কাছ থেকে সরাসরি ফুটবল শেখা খুব কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে ফুটবলীয় দক্ষতার চেয়ে মেসির বিনয়, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই বেশি শিক্ষা নেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, মেসি মাঠে যা করেন, তা সাধারণ ফুটবলারদের পক্ষে অনুকরণ করা প্রায় অসম্ভব। কারণ তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, খেলার দৃষ্টিভঙ্গি এবং কারিগরি দক্ষতা অন্য সবার চেয়ে আলাদা।
অ্যালিস্টার বলেন, “সে যা করে, সেখান থেকে শেখা খুব কঠিন। কারণ বিষয়গুলো বুঝতে পারলেও আপনি কখনোই সেভাবে করতে পারবেন না। আমি তার কাছ থেকে যা শিখি, তা হলো তার মূল্যবোধ এবং অসাধারণ বিনয়। সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন, কিন্তু তার আচরণ সবসময়ই সাধারণ ও অনুকরণীয়।”
মেসির সঙ্গে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার বলেন, “লিওর সঙ্গে থাকা আমি খুবই উপভোগ করি। তার মতো কাউকে আর দেখা যাবে না। তার পাশে থেকে সবকিছু দেখা একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সে যা করে, সেগুলো সাধারণ কিছু নয়। আমি শুধু তার প্রতিভার সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করি, কারণ দলের জয়ের জন্য সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সম্প্রতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন মেসি। প্রথম গোলের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় আসেন ম্যাক অ্যালিস্টারও।
নিজেদের অর্ধ থেকে রদ্রিগো ডি পলের দেওয়া একটি পাস মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যালিস্টার না ধরে ছেড়ে দেন মেসির জন্য। পরে সেই বল থেকে গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অ্যালিস্টার বলেন, “প্রথম গোলটির সময় আমি মাঝমাঠে ছিলাম। দেখেছিলাম লিও আমার পেছনে অবস্থান করছে। অনেকেই বলছে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে বল ছেড়ে দিয়েছি। তবে যে ফুটবল খেলেছে, সে বুঝবে পাসটির গতি ও শক্তি এমন ছিল যে আমি জানতাম বলটি আমার জন্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “মেসি যখন আপনার আশপাশে থাকে, তখন সবসময়ই আপনি তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। কারণ সে এমন কিছু করতে পারে, যা অন্য কেউ পারে না।”
ম্যাক অ্যালিস্টারের মতে, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার ফুটবল প্রতিভা নয়, বরং দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়ে বিনয়ী ও দলকেন্দ্রিক মানসিকতা ধরে রাখা। আর এ কারণেই তিনি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, বিশ্ব ফুটবলেরও এক অনন্য কিংবদন্তি।




