অশ্রুসিক্ত বিদায়, জাতীয় দলকে ‘শেষ’ বললেন নেইমার
নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়; ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আবারও অপূর্ণই রয়ে গেল ব্রাজিলের। সেই সঙ্গে শেষ হলো দেশটির অন্যতম সেরা ফুটবলার নেইমারের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর জাতীয় দলকে বিদায় জানান ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নেইমার। শেষ বাঁশি বাজার পর কান্নায় ভেঙে পড়া ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক কিছুক্ষণ পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন।
বিদায়ী বার্তায় নেইমার বলেন, *“আমি চেষ্টা করেছি, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এই মেট লাইফ স্টেডিয়ামেই আমার জাতীয় দলের পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই তার সমাপ্তি। জাতীয় দলের হয়ে আমার যাত্রা এখানেই শেষ।”*
২০১০ সালের ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ঠিক এই মেট লাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে আলোচনায় আসা এই তারকা নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও গোলের দেখা পেয়েছেন। তবে সেই গোল ব্রাজিলকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি।
ম্যাচে নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন আর্লিং হলান্ড। পরে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান নেইমার। কিন্তু ততক্ষণে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৩০ ম্যাচে ৮০টি, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ব্যক্তিগত এই কীর্তির বিপরীতে দলীয় সাফল্য খুব বেশি যোগ হয়নি তার ঝুলিতে। ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপই জাতীয় দলের হয়ে তার একমাত্র শিরোপা। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকা জয়ী দলে থাকার কথা থাকলেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চোটে ছিটকে পড়েন তিনি।
ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতলেও গত কয়েক বছর ধরে চোট যেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতর হাঁটুর চোটে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। এরপর আর কখনোই পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি।
এই অবস্থায় ২০২৫ সালের শুরুতে সৌদি আরবের আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। লক্ষ্য ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করা। কিন্তু সেখানেও বারবার চোটে পড়তে হয় তাকে।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে কোনো ম্যাচেই নেইমারকে দলে ডাকেননি। তবে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেন ইতালীয় এই কোচ। প্রায় তিন বছর পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জাতীয় দলে ফেরেন নেইমার। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেই বিদায়ের ঘোষণা দেন।
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না নেইমার। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসের হয়ে পেশাদার ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন।




