চট্টগ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী

নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা; বাসাবাড়ি, সড়ক ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে দুর্ভোগে লাখো মানুষ, রেল চলাচলেও বিপর্যয়

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬; সময়: ৩:২১ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।

নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, আকমল আলী সড়ক, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড়, গোলপাহাড়, কাজিরহাটসহ বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। নিচু এলাকার বহু বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

বাকলিয়া এলাকায় অনেক দোকানে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার দুর্বিষহ সময় পার করছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিস একই সময়ে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ষোলোশহর এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে নারী ও শিশুসহ প্রায় এক হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানিয়েছেন, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যেসব যাত্রীর ভ্রমণ বাতিল হয়েছে, তাঁদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বর্ষায় একই ধরনের জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ালেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। চলমান বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন