গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যেসব খাবার সবচেয়ে উপকারী

অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশে সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬; সময়: ৫:১৭ pm | 
খবর > লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক : গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস (১ থেকে ১২ সপ্তাহ) মা ও গর্ভের শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই ভ্রূণের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হৃদ্‌যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর বিকাশ শুরু হয়। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুধু হবু মায়ের সুস্থতাই নয়, অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার শুরুতে অনেক নারীর বমিভাব, খাবারে অরুচি, ক্লান্তি ও ক্ষুধার পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবুও পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

**ফোলেটসমৃদ্ধ খাবার** গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলোর একটি। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়তা করে। পালং শাক, মসুর ডাল, ছোলা, ব্রোকলি, কমলালেবু ও অ্যাভোকাডো ফোলেটের ভালো উৎস। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিডও গ্রহণ করা যেতে পারে।

**প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার** শিশুর শরীরের টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, চর্বিহীন মুরগির মাংস, দুধ, দই, পনির, ডাল, শিম ও সয়াজাতীয় খাবার রাখা উপকারী।

**গোটা শস্যজাতীয় খাবার** যেমন লাল চাল, ওটস, গম, মিলেট ও কিনোয়া শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি আঁশের চাহিদা পূরণ করে। এগুলো গর্ভাবস্থায় দেখা দেওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমাতে সহায়তা করে।

**তাজা ফল ও শাকসবজি** ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কলা, লেবুজাতীয় ফল, গাজর, মিষ্টি আলু এবং সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

**ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি** শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠন এবং মায়ের হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। দুধ, দই, পনির, তিল ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পাশাপাশি ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে।

এ ছাড়া **পর্যাপ্ত পানি পান** গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশনা না থাকলে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ডাবের পানি, স্যুপ, ঘোল বা প্রাকৃতিক ফলের রসও শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় কোনো ধরনের খাদ্যতালিকা বা পুষ্টি-পরিপূরক গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন