চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে পানি কমতে থাকায় বেরিয়ে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন

চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে উন্মোচিত হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট অব্যাহত

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬; সময়: ১১:৫০ am | 
খবর > আঞ্চলিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য তিন জেলা ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ভাঙাচোরা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও ডুবে নষ্ট হওয়া ফসলের কারণে দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের গ্রাম থেকে বন্যার পানি সরে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে চরতী, আমিলাইষ, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনা, নলুয়া ও এওচিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ এখনও ব্যাহত রয়েছে।

পাশের বাঁশখালী উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। পানি নেমে গেলেও অসংখ্য বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বান্দরবানের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল থেকেও বন্যার পানি নেমে গেছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁশখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা আপাতত কমেছে।

কক্সবাজারের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলেও পানি নেমেছে। তবে রাঙ্গামাটির অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অনেক স্থানে এখনও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কাজ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সড়ক মেরামত, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং কৃষকদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন