চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা বিএনপির: মির্জা ফখরুল

প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬; সময়: ৪:৪১ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়ক, অবকাঠামো, সৌরশক্তি ও সবুজ জ্বালানি খাতে চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি চীনের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে দলটি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে উচ্চগতির রেল (হাইস্পিড ট্রেন) প্রযুক্তি বাস্তবায়নে চীন আগ্রহী। তিনি জানান, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাত সহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পারস্পরিক আস্থা, উন্নয়ন সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন