চাকরিতে টিকছেন না কেন গ্র্যাজুয়েটরা?

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬; সময়: ৫:৫৭ pm | 
খবর > চাকরি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: প্রতি বছর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর বড় একটি অংশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। কেউ ইন্টারভিউতেই বাদ পড়ছেন, আবার কেউ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে টিকে থাকতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞ ও কর্পোরেট খাতের নিয়োগকর্তারা বলছেন, এর অন্যতম কারণ হলো তাত্ত্বিক শিক্ষার আধিক্য, বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার অভাব এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার দূরত্ব।

তাত্ত্বিক শিক্ষার আধিক্য

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে পাঠ্যবই ও মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক। ফলে ডিগ্রি অর্জন করলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজের চাপ সামলাতে অনেক গ্র্যাজুয়েটকে হিমশিম খেতে হয়।

শিক্ষা ও কর্মবাজারের দূরত্ব

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক পাঠ্যক্রমই কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের দক্ষ কর্মী খুঁজছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সে অনুযায়ী জনবল তৈরি করতে পারছে না।

কোন দক্ষতার ঘাটতি বেশি?

নিয়োগদাতাদের মতে, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে দুই ধরনের দক্ষতায়-সফট স্কিল ও টেকনিক্যাল স্কিল।

যোগাযোগে দুর্বলতা, সমস্যা সমাধানে অক্ষমতা এবং দলগতভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার অভাব সফট স্কিলের বড় দুর্বলতা। অন্যদিকে, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, পেশাদার ই-মেইল লেখা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক চাকরিপ্রার্থীর দক্ষতা সীমিত।

পরিত্রাণের উপায় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে প্রজেক্টভিত্তিক কাজ, কেস স্টাডি ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই অন্তত ৩ থেকে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদেরও শুধু ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই যোগাযোগ দক্ষতা, আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং ও নিজ নিজ বিষয়ের আধুনিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি। এসব সেন্টার শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

একটি ভালো ডিগ্রি চাকরির ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু চাকরিতে টিকে থাকা নির্ভর করে দক্ষতা, কাজের মান এবং শেখার মানসিকতার ওপর। কারণ বর্তমান কর্মবাজারে শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি মূল্য পাচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন