সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

৩০ বছরের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ খুলছে যুক্তরাষ্ট্র; কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি শিথিল হওয়ায় অস্ত্র বিস্তারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬; সময়: ১:১১ pm | 
খবর > আন্তর্জাতিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটি কার্যকর হলে আগামী ৩০ বছর সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি, উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করবে সৌদি আরব।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম *ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল* এবং ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তির খসড়া মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদনের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি ভিত্তি হিসেবে পরিচিত **‘১২৩ চুক্তি’**–সংক্রান্ত নথিও জমা দেওয়া হবে।

চুক্তির আওতায় সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে সৌদির পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে চুক্তির নিরাপত্তা কাঠামো। এতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত **‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’** শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে সৌদি আরব চাইলে নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত পরিদর্শন ব্যবস্থার বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি। খসড়া অনুযায়ী, প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দ্বিপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কারণ, পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রধান দুটি ধাপ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে সৌদি আরবও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একই পথে এগোতে বাধ্য হবে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিটি কংগ্রেসে অনুমোদন পেলে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও সূচনা হতে পারে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন