নিরাপদে দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার দাবি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতাকেই পদত্যাগের কারণ বলা হচ্ছে

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬; সময়: ১২:৪৬ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিরাপদে দেশত্যাগ ও নির্বিঘ্ন প্রস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সমঝোতার বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।

একটি সংবাদমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের সময়ের কোনো অভিযোগ, মামলা বা বিতর্কের দায় বিএনপি নেবে না বলে দলটি অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগে সম্মত হন। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়াই নিরাপদ হবে বলেও মত দেওয়া হয়।

পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। তাদের মতে, অভিশংসনের দাবি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সম্মানজনকভাবে বিদায়ের পথ বেছে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেননি।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে নির্ধারিত সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের সময়ের বিভিন্ন অভিযোগ, দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ভূমিকা এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো দায় বিএনপি নেবে না বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার পদত্যাগ গ্রহণ এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জানায়। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন