আত্রাইয়ে পাটজাগে স্বল্প পানি দূষিত, ভেসে উঠছে নদীর মাছ

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৩; সময়: ৪:৫৭ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাণীনগর : নওগাঁর আত্রাই ছোটনদীর স্বল্প পানিতে পাটজাগ দেয়ায় পানি দূষিত হয়ে মরে ভেসে উঠছে বিভিন্ন প্রকারের দেশীয় প্রজাতির মাছ। শনিবার সকালে নদীর কয়েকটি স্থানে এই মাছগুলো মরে ভেসে ওঠলে স্থানীয়রা মরা ও আধা মরা মাছ ধরতে নদীর পানিতে ভির করে। অনাবৃষ্টির কারনে পুকুর বা ডোবার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চাষীরা নদীর স্বল্প পানিতেই পাটজাগ দিয়েছেন।

কৃষকরা বলছেন, প্রতি বছর এসময় বৃষ্টির প্রভাবে ডোবা-নালা,পুকুর পানিতে ভরপুর হয়ে যায়। এছাড়া প্রতিটি নদীও থাকতো পানিতে ভরা। তাই পাট কেটে ডোবা-নালা,পুকুর বা নদীতে পাট জাগ দেয়া হতো। কিন্তু এবছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারনে ভরা বর্ষা মৌসুমেও একদিকে যেমন ডোবা-নালা, ডুকুর পানি শ্যুন্য হয়ে পরেছে,অন্য দিকে নদীর পানিও তলানীতে নেমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে চাষীরা নদীর স্বল্প পানিতেই পাটজাগ দিয়েছেন। এতে নদীর পানি দুর্গন্ধসহ পানির রংও পরিবর্তন হয়ে অনেকটা কালো আকৃতি ধারণ করেছে। ফলে নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছ মরে যাচ্ছে।

শনিবার সকালে আত্রাই ছোট নদীর শিবপুর,পাঁচপাকিয়াসহ কয়েকটি স্থানে মাছ মরে ভেসে ওঠে। নদীতে মাছ ধরতে আসা শিবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর নদীতে গিয়ে দেখি পুঁটি, টেংড়া, পাতাশি, মলা, চাঁন্দা, চেলাসহ বিভিন্ন প্রকারের দেশী প্রজাতির মাছ মরে মরে ভেসে উঠেছে। এসময় আমিসহ স্থানীয় লোকজন মরা মাছ ধরতে নদীতে নেমে পরে। তিনি বলেন, পাটজাগের কারনে পানি থেকে চরম দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, যে পানিতে পাটজাগ দেয়া হয় সেখানে পানির আ্যামোনিয়া গ্যাস বৃদ্ধিসহ অক্সিজেন কমে গিয়ে পুরো পানি দূষিত হয়ে যায়। ফলে মাছ থাক আর যাই থাক মরে যেতে পারে। ঠিক একই কারনে নদীতে পাটজাগ দেয়ায় পানি দূষিত হয়ে নদীর কয়েকটি স্থানে মাছ মরে ভেসে ওঠেছে। খবর পেয়ে অফিস থেকে ঘটনাস্থলে লোকজন পাঠিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। এছাড়া নদীর মাছ রক্ষায় এবং অন্য পদ্ধতিতে পাটজাগ দিতে কৃষকদের সাথে কথা বলতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় বলেন, চলতি মৌসুমে আত্রাই উপজেলায় ২৫৫ হেক্টর জমিতে পাঠ চাষ করা হয়েছে। ইতি মধ্যে কৃষকরা ভরাভরি পাট কাটা শুরু করেছেন। দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারনে পুকুর ডোবা নালায় পানি না থাকায় যেখানে একটু পানি জমা হয়ে আছে সেখানেই পাটজাগ দিচ্ছেন। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ক্ষতি এরাতে কিভাবে অন্য পদ্ধতিতে পাটজাগ দেয়া যায় তা নিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন