ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৩; সময়: ১০:৪৪ am | 
খবর > আঞ্চলিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : অতিমাত্রায় বৃষ্টি, জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও, রামু ও মহেশখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাত আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

মাতামুহুরী, বাকঁখালীসহ ছোট বড় ৭/৮ টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বসতবাড়ি ও ফসলী জমি ডুবে গেছে। গত ৩ দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকেছে।

অন্যদিকে সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মা-মেয়ে পাহাড় চাপা পড়ে মারা গেছেন। তারা হলেন, আনোয়ারের স্ত্রী জান্নাত আরা (২৪) ও তার মেয়ে মাহিমা আক্তার (২)। সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীর পানি চিরিংগা পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ৩/৪ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর লক্ষ্যারচর হাজিপাড়া পয়েন্টে লাকড়ি ধরতে নদীতে ঝাঁপ দেন শাহ আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। এ সময় লাকড়ি ধরে কূলে ফেরার সময় পানির তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। ঘটনার ২ ঘণ্টা পর তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

এদিকে বরইতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পূর্ব ভিলিজার পাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো, আনোয়ার হোসেনর দুই শিশু।

একজনের নাম মোহাম্মদ সাবিত (৫) ও অন্যজন তাবাচ্ছুম (১)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান।

উপজেলার বরইতলী, কৈয়ারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, কোনাখালী, চিরিংগা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, বদরখালী, হারবাং, ঢেমুশিয়া, বিএমচরসহ ১৮টি ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বদরখালী ও পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া এলাকায় স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে চকরিয়ার হারবাং, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কৈয়ারবিল ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এসব এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা জামিল মোরশেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে কোনাখালীর কন্যারকুম এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনেক ইউনিয়নে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, পানিবন্দি মানুষগুলো যাতে খাবারের সংকটে না পড়েন সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে ওইসব এলাকাগুলোয় দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য বলা হচ্ছে। সেখানে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে এসেছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন