চালকের মুক্তির দাবিতে নওগাঁয় ২য় দিনের মতো বাস ধর্মঘট

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৩; সময়: ২:৫৪ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : নওগাঁয় এক চালকের মুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার অভ্যান্তরীণ সব রুটে বাস ধর্মঘট চলছে।

কোনো ঘোষণা ছাড়াই গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা।

বুধবার (৯ আগস্ট) সকালে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ধর্মঘটের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস না পেয়ে গন্তব্যে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বাস না পেয়ে অনেককে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইলেক্ট্রিক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এতে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

গত ১ জুলাই নওগাঁ-সাপাহার রুটে চলাচলকারী একটি বাসের ব্রেক ফেল করায় চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে নওগাঁ শহরের জলিল পার্ক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটির সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এতে দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রী ছাড়াও পার্কে ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থীও আহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন মানুষ আহত হন।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার বাসের চালক ইমরান হোসেন গত ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। গত রোববার পরবর্তী শুনানিতেও আদালত ওই চালকের জামিন নামঞ্জুর করেন।

নওগাঁ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের একজন বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর আমরা নিজ থেকে তাঁকে আদালতে উপস্থিত থেকে জামিনের জন্য আবেদন করতে বলি। কিন্তু বিচারক জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এভাবে পরপর তিনবার তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়। তার মুক্তিকে শ্রমিকেরা এখন কর্মবিরতি শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে আপোষনামা করে আগামী রোববার আবারও আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করা হবে। জামিন না হলে শ্রমিকদের এই কর্মবিরতি চলতেই থাকবে।

এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা বাস ধর্মঘটে বিপাকে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। জেলা শহর থেকে সাপহার, নজিপুর, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, পোরশাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসস্টান্ডে এসে অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন