এসিডির আয়োজনে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক ওরিয়েন্টশন

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৩; সময়: ৬:১১ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : এসিডির আয়োজনে আনসার সদস্য এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ অক্টোবর এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) এর আয়োজনে ফ্রি অ্যা গার্ল নেদারল্যান্ড এর সহযোগিতায় প্রটেকশন অ্যান্ড সাইকোসোসাল ডেভলপমেন্ট অব গার্লস ফ্রম অ্যাবিউসিভ অ্যান্ড এক্সপ্লোইটেটিভ সিচুয়েশন’র প্রকল্পের আওতায় সাধারণ আনসার সদস্য এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্যবৃন্দের অংশগ্রহণে শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে মেয়েদের সুরক্ষা ও মনস্তাত্তিক বিকাশ শীর্ষক এক ওরিয়েন্টশনের আয়োজন করা হয়।

ওরিয়েন্টশনের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা, শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও করণীয় নিয়ে দিনব্যাপী ওরিয়েন্টশন পরিচালনায় মূখ্য ভূমিকা রাখেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ। ওরিয়েন্টশনে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি শিশু প্রতিবছর সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, এমন সহিংসতা প্রতিরোধে অতি অবশ্যই দ্রুত, কার্যকরী এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার বিস্তার বিষয়ে ৯৬টি দেশে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে ১০০ কোটি শিশু ২-১৭ বছর বয়সী শিশুদের মোট সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, বিগত বছরে আবেগীয়, শারীরিক অথবা যৌন সহিংসতা শিকার হয়েছে। কিশোরী ও বালিকারা যৌন সহিংসতার শিকার হয় বেশি।

শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা, শিশুনির্যাতন ও নির্যাতনের ধরণসমূহ, শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের কারণ ও ফলাফল, নির্যাতিত শিশুদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সেবাসমূহ, শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত আইন সমুহ, শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও দলীয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে ওরিয়েন্টশনের বিভিন্ন দিক তুলে আনা হয়। এসময় সহায়ক হিসেবে এসিডি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মনিরুল ইসলাম পায়েল এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী এস.এম অহসান উল্লাহ সরকারও ভূমিকা পালন করেন।

অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ, টেকসই এবং উন্নত পারিবারিক পরিবেশ করা, এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিশেষায়িত সেবা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করার উপর জোর দেন একই সাথে ভৌত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অনিরাপদ পরিবেশের সংস্কার করা, উন্মুক্ত স্থানগুলোতে সহিংসতার হুমকি প্রশমণে ঝুঁকির চলকসমূহ কমিয়ে আনা; বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র ইত্যাদি স্থানে বিরাজমান লৈঙ্গিক অসমতাজনিত সম্পর্কগুলো চিহ্নিত করা; সহিংসতার আশ্রয় নিতে সহায়তা করে এমন সব সাংস্কৃতিক মনোভঙ্গি ও চর্চার পরিবর্তন ঘটানো।

এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি ১৯৮৯ সাল থেকে নারী ও শিশু অধিকার ও সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। এসিডির কর্মক্ষেত্রের মধ্যে শিশুর সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এসিডি মনে করে, সাধারণ আনসার সদস্য এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দের অংশগ্রহণে শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন