রাজশাহীর ৯৪ শতাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন

নিবন্ধন ছাড়াই চলছে ১৮৬টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল, নবায়ন হয়নি আরও আড়াই শতাধিকের

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৫; সময়: ৩:৪৩ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। জেলার ৫৮৬টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এর মধ্যে ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো নিবন্ধনই নেই। নিবন্ধিত ৪০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিকের নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ জনবল ও অননুমোদিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে রোগীরা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন, তেমনি নিবন্ধন নবায়ন না করে সরকারকেও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন জানান, “পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ক্লিনিক, হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত হতে পারে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে ছাড়পত্র প্রদান সম্ভব নয়।”

২০১০ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধনের পূর্বশর্ত হলো পরিবেশ ছাড়পত্র। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আইনকে উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অবৈধ ঠিকানায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশেই একটি ছোট ঘরে চলছে ‘প্রাইম ডায়াগনস্টিক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। অথচ প্রতিষ্ঠানটি রাজপাড়া এলাকায় নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। ঠিকানা পরিবর্তন করে কার্যক্রম পরিচালনা করাকে বেআইনি বলে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

২০২৩ সালে তানোরের ‘মহানগর ক্লিনিক’-এ এক নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, ক্লিনিকের ম্যানেজার, যিনি চিকিৎসক নন, তিনিই অপারেশন করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তানোর উপজেলায় ২২টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানই পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়েছে। বাকিগুলোর নেই উপযুক্ত নিবন্ধন, দক্ষ জনবল বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। অনেক ক্ষেত্রে প্যাথলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বলেন, “অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ রাজশাহীর ৪০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন