রাজশাহীতে এক পোয়া কাঁচা মরিচের দাম ৮০ টাকা
“এই কয় দিন আগে এই টাকায় পুরো এক কেজি মরিচ কিনেছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের বাজারে আগুন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
শুক্রবার সকালে রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। অথচ ৫ দিন আগেও এই দাম ছিল মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে মরিচ নেই। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। নগর সংলগ্ন পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস এলাকার হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মরিচের সরবরাহ খুবই কম। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই পাকা মরিচ- যার দাম ২০০ টাকা কেজি। ভালো মানের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, “গতকাল পর্যন্ত মরিচ ৩৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। বৃষ্টি না কমলে দাম আরও বাড়তে পারে। গাছে মরিচ নেই, পানিতে গাছও মরে যাচ্ছে।”
পারিলা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন এই হাটে মাত্র কয়েক কেজি মরিচ নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, তাঁর মরিচক্ষেতে কয়েক দিন ধরে পানি জমে আছে। সেখান থেকে কিছু মরিচ তুলেই বিক্রি করতে এনেছেন। বললেন, “আর দুই-তিন দিন এভাবে থাকলে পুরো খেতটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
হাটের আরেক ব্যবসায়ী তসলিম জানান, তিনি এক কৃষকের কাছ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে মরিচ কিনে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। বললেন, “মরিচ তো নেই বললেই চলে। অথচ এখান থেকেই ঢাকায়ও মরিচ যায়।”
একই হাটে আড়াই কেজি মরিচ কেনেন হায়দার হোসেন নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, “বাসায় অনুষ্ঠান, মরিচ দরকার। তাই এত দাম দিয়েও কিনতে হলো।”
নগরের সাহেববাজার ও বিনোদপুর বাজারেও একই অবস্থা। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না, সরবরাহও বন্ধ।
সাহেববাজারের এক ক্রেতা জানান, তিনি মাত্র এক পোয়া মরিচ কিনেছেন ৮০ টাকায়। বললেন, “এই কয় দিন আগে এই টাকায় পুরো এক কেজি মরিচ কিনেছি।”




