নিয়ামতপুরে স্বস্তির বৃষ্টিতে চাঙ্গা কৃষকরা, ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রোপা আমন রোপণে

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৫; সময়: ৭:৪১ pm | 
খবর > কৃষি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে টানা খরার পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে মুখে হাসি ফিরেছে কৃষকদের। কয়েকদিনের টিপটিপ বৃষ্টির পর গত সপ্তাহে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এখন পুরোদমে রোপা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা জমিতে চাষ, আগাছা পরিষ্কার, সেচ, সার প্রয়োগসহ নানা কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্ষায় কম খরচে আমন ধান চাষ করে লাভের আশা করছেন তাঁরা। সময়মতো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হওয়ায় এ মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন অনেকে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে নিয়ামতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ শতাংশ।

হাজিনগর ইউনিয়নের বগধন গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, “আমরা দুই ভাই মিলে ৯ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধান চাষ করছি। বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এখন চারা লাগিয়ে ফেলেছি। খুবই খুশি।”

একই গ্রামের আরেক কৃষক আবু হাসান জানান,“বৃষ্টির উপর নির্ভর করেই আমরা আমন চাষ করি। অনেক দিন পর ভালো বৃষ্টি পেলাম। দুই একর জমিতে পানি জমেছে, জমি চাষ করে চারা রোপণ শুরু করেছি।”

পাড়ইল ইউনিয়নের তুলাবাঐল গ্রামের কৃষক মোঃ রাব্বানী বলেন,“৬ বিঘা জমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করেছি। এখন আদিবাসী নারী শ্রমিকরা রোপণের কাজ করছেন।”

সেই গ্রামেরই আরেক কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন জানান, “বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলাম। এতদিন শুধু কাদা তৈরি করা বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু এখন কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি পেয়ে চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।”

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামসুজ্জোহা বলেন,“বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষক রোপা আমন লাগাতে পারেননি। তবে আষাঢ়ের শেষভাগে এসে স্বস্তির বৃষ্টি হওয়ায় এখন কৃষকেরা চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শ্রাবণ মাস আমন রোপণের উপযুক্ত সময়। আশা করছি, এ মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। সারের কোনো সংকট নেই, কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় ইউনিয়নভিত্তিক কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠে আছেন।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন